প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৯ পিএম
তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আই–প্যাকের কলকাতা কার্যালয়ে গত ৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি অভিযান চালাতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ঢুকে গিয়ে কিছু নথিপত্র নিয়ে আসেন। ছবি: পিটিআই
তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আই–প্যাকের কলকাতা কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি তল্লাশি চালানোর সময়ে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ঢুকে গিয়ে কিছু নথিপত্র নিয়ে এসেছিলেন, সেই ঘটনায় এবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের
তদন্ত বিভাগ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি জানিয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী
মমতা ওই তল্লাশির সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ সরিয়ে নিয়ে গেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীও সংবাদ
মাধ্যমকে সেরকমই জানিয়েছিলেন।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে
মামলা দায়ের করেছিল ইডি। আবার ইডির বিরুদ্ধেও মমতার দল মামলা দায়ের করেছে।
এবার দেশটির সর্বোচ্চ
আদালতে মামলা করল কেন্দ্রীয় এজেন্সিটি।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করে জানিয়ে রেখেছে যাতে তাদের
পক্ষে না শুনে একতরফা রায় না দেওয়া হয়।
ভারতের আইন আদালত
সংক্রান্ত খবরাখবরের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ জানিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট
ডিরেক্টরেট শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেছে, যাতে তদন্তে বাধা দেওয়ার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত।
তারা কলকাতা হাইকোর্টের
কাছেও একই আবেদন জানিয়েছিল।
পাশাপাশি তারা হাইকোর্টের
কাছে আবেদন করেছিল, যাতে ওই পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর মালিক প্রতীক জৈনের বাড়ি
এবং দপ্তর থেকে যেসব নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণ মমতা ব্যানার্জী নিয়ে গিয়েছিলেন, সেগুলোও
যেন তিনি ফেরত দেন।
কলকাতা হাইকোর্টে
দায়ের হওয়া মামলা দুটি ১৪ই জানুয়ারি শুনানি হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের
রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে গত ৮ জানুয়ারি
তল্লাশি শুরু করে ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানিয়েছিল, কয়েক বছরের পুরোনো কয়লা এবং
অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে আই-প্যাকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তারা। সেজন্যই
তল্লাশি চলছিল।
হঠাৎই প্রতীক জৈনের
বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী।
বেশ কিছুক্ষণ পরে
তিনি সঙ্গে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তিনি নিজেই দাবি করেছিলেন, তার দলের নির্বাচনী
কৌশল সংক্রান্ত কিছু নথি এবং হার্ডডিস্ক নিয়ে এসেছেন তিনি।
এরপর সংস্থাটির দপ্তরে
তল্লাশি চলাকালীন প্রায় চার ঘণ্টা ভেতরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেও অনেক ফাইল
নিয়ে এসে তার গাড়িতে তোলা হয়েছিল সংবাদমাধ্যমের সামনেই।
পরের দিন মমতা এক
জনসভায় দাবি করেছিলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসাবে যা করেছেন, ঠিক কাজ
করেছেন।