প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৭ পিএম
বাংলাদেশের কাছে জেএফ - ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধানদের আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের কাছে জেএফ - ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে দু’দেশের বিমান বাহিনীর প্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি বড়সড় প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ঢাকার কাছে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখন তাদের অস্ত্র বিক্রির বাজার বড় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে।
ইসলামাবাদে এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে হওয়া আকাশযুদ্ধে তাদের বিমানবাহিনীর সাফল্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে চাইছে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গত তিন দশকের মধ্যে সেটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই।
পাকিস্তানের আইএসপিআর মঙ্গলবার জানিয়েছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ কেনার ব্যাপারে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।
জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে পাকিস্তানে তৈরি করা হয়। মিয়ানমার, আজারবাইজান বা নাইজেরিয়ার মতো দেশ পাকিস্তান থেকে এই যুদ্ধবিমান কিনেছে। পাকিস্তান বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ করার এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে।
উষ্ণ হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক দ্রুত বদলাতে শুরু করে। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতারই ইঙ্গিত মিলছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, “এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও জোরালো করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যকে স্পষ্ট করেছে।”
শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দুই দেশ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে। এছাড়া দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
অস্ত্র বিক্রির পরিধি বাড়ছে
পাকিস্তানের অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো এই ‘জেএফ-১৭’ যুদ্ধবিমান। সম্প্রতি আজারবাইজানের সঙ্গে একটি চুক্তি এবং লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র চুক্তির পর এবার বাংলাদেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনার খবর এলো।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশটির অস্ত্র শিল্পের এই সাফল্য পাকিস্তানের অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। জিও নিউজকে তিনি বলেন, “আমাদের তৈরি বিমানগুলো যুদ্ধে পরীক্ষিত। এখন আমাদের কাছে এত বেশি অর্ডার আসছে যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আইএমএফের ঋণের আর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না।”