প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২০ পিএম
রবিবার বেনিনে সেনাবাহিনীর একটি দল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয় ছবি: রয়টার্স
বেনিনের একদল সেনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গিয়ে ক্ষমতা দখলের দাবি জানানোর পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
একে
ওই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক চর্চায় সর্বশেষ হুমকি মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
বেনিনের প্রতিবেশী দেশ নাইজার, বুরকিনা ফাসো, মালি, গিনিÑ এমনকি গত মাসে গিনি-বিসাউয়ের
ক্ষমতাও সামরিক বাহিনীর হাতে চলে গেছে।
রবিবার
সকালে অন্তত ৮ সেনার একটি দল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয়। তারা
নিজেদের ‘মিলিটারি কমিটি ফর রিফাউন্ডেশন (সিআরএম)’ নামে পরিচয় দিয়ে জানায়, তারা প্রেসিডেন্ট
প্যাট্রিস তালোনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। তারা দেশের সরকার, জাতীয় প্রতিষ্ঠান
এবং সংবিধান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব সীমান্ত
সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। অভ্যুত্থানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাস্কাল তিগ্রি
নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও তারা দাবি করে। সেনাদের
কারও কারও মাথায় হেলমেট ছিল।
‘সেনাবাহিনী
আন্তরিকভাবে বেনিনের জনতাকে সত্যিকারের নতুন যুগের আশা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে,
যেখানে ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও কঠোর পরিশ্রমের জয় হবে’, বিবৃতিতে বলেন এক সেনা।
অভ্যুত্থানের
ঘোষণার পর রাজধানী কোটোনুর ক্যাম্প গুয়েজোর কাছে প্রেসিডেন্ট তালোনের বাসভবনের কাছাকাছি
এলাকায় গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়। এতে প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে
উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট তালোন
নিরাপদে আছেন এবং তার নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। পরে রবিবার এক বিবৃতিতে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেসানে সেইদু বলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী ওই অভ্যুত্থানচেষ্টা
ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তার
কিছুক্ষণ আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুশেগুন আদজাদি বাকারি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘ক্ষুদ্র
একটি দল’ সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস টালোনের
প্রতি অনুগত বাহিনী শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনে কাজ করছে। বেনিনের এই ঘটনাটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার
জন্য একটি নতুন আঘাত, যা পশ্চিম আফ্রিকার সামরিক ক্ষমতা দখলের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতাকে
প্রতিফলিত করে। প্রেসিডেন্ট তালোন ২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং আগামী বছর তার মেয়াদ
শেষ হওয়ার কথা।
একটি
নিম্ন-মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল অর্থনীতি বেনিন মূলত কৃষি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।
দেশটির জিডিপিতে সেবা খাত (প্রধানত বাণিজ্য ও পরিবহন) সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। তবে
তুলা হলো দেশটির প্রধান রপ্তানি পণ্য, যা মোট রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ। এছাড়া কাজুবাদাম,
সয়াবিন ও পামজাত পণ্যও উল্লেখযোগ্য।
কৃষি
খাতে দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি কর্মজীবী মানুষ যুক্ত। অন্যদিকে কোটোনু বন্দরটি বেনিনের
অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পার্শ্ববর্তী বিশাল দেশ নাইজেরিয়ার জন্য
একটি প্রধান বাণিজ্যিক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দেশটি দারিদ্র্য, ব্যাপক অনানুষ্ঠানিক
অর্থনীতি এবং অবকাঠামোগত ঘাটতির মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
দেশটির
চলমান সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক সংকট রয়েছে,
যার মূলে রয়েছে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালোনের অধীনে গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণ।
তালোন
সরকারবিরোধীদের লক্ষ্য করে কঠোর নির্বাচনী সংস্কার করেছে। এর ফলে মূল বিরোধী দলগুলোর
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক বিরোধী নেতাকে হয় নির্বাসনে
যেতে হয়েছে, অথবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে যেতে হয়েছে;
যেমন বিরোধী দলের নেত্রী রেকিয়া মাদুগু।