× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রায়ের ৬ বছর পরও অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণ শুরু হয়নি কেন?

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৩২ পিএম

অযোধ্যা মূল শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে ধন্নিপুর গ্রামে মসজিদের জন্য বরাদ্দ জায়গায় নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। ছবি: সংগৃহীত

অযোধ্যা মূল শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে ধন্নিপুর গ্রামে মসজিদের জন্য বরাদ্দ জায়গায় নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। ছবি: সংগৃহীত

আবার এলো ৬ ডিসেম্বর। ৩৪ বছর আগে এই দিনেই ভেঙে ফেলা হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। সেই স্থানে রাম মন্দির উদ্বোধনেরও প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু ৬ বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুসলিমদের জন্য যে ৫ একর বিকল্প জমি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মসজিদ নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি।

মসজিদ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের তৈরি ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ)। প্রথম যে নকশা করা হয়, তা পছন্দ করেনি আইআইসিএফ। এরপর আবারও নকশা করা হয়েছে। আর সরকারের দেওয়া জমিটি অযোধ্যা মূল শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে ধন্নিপুর গ্রামে অবস্থিত, তা নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অ্যাক্টিভিস্টদের একটি বড় অংশ মনে করেন, অযোধ্যা নগরের বাইরে এত দূরে সাধারণ মানুষ নামাজ পড়তে যাবেন না। আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট ওম প্রকাশ সিং বলেছেন, আদালতের নির্দেশ ছিল অযোধ্যার বিশিষ্ট জায়গায় জমি দেওয়ার, কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদের কমিটির সম্পাদক মহম্মদ আজম কাদরিও একই অভিযোগ করেছেন। 

প্রথমে মসজিদের জন্য যে নকশা তৈরি করা হয়েছিল 

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জুফর আহমেদ ফারুকি বিবিসিকে বলেছেন, ‘ট্রাস্টের কাছে অর্থ নেই, তাই কাজ শুরু হচ্ছে না।’ তিনি অনুদান কম আসাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

জমি বরাদ্দ হওয়ার পরই কোভিড মহামারি শুরু হওয়ায় কাজে বিলম্ব হয় বলে ট্রাস্ট দাবি করেছে। এ ছাড়া, ট্রাস্টের তৈরি করা প্রথম নকশাটি নিয়ে জনগণের এবং সদস্যদের মধ্যেই আপত্তি ছিল। অনেকের মতে, সেটি মসজিদের মতো দেখতে ছিল না, বরং কমপ্লেক্সের মতো ছিল।

২০২০ সালে রৌনাহি থানা থেকে ২০০ মিটার দূরে জমি বরাদ্দ হয়। তবে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে ওম প্রকাশ সিং আরটিআই ফাইল করলে অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এডিএ) জানায়, নকশা বাতিল করা হয়েছিল, কারণ ট্রাস্ট ১৪-১৫টি বিভাগের (যেমন দমকল, পিডব্লিউডি) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় এনওসি (অনাপত্তিপত্র) জমা দিতে পারেনি।

তবে আইআইসিএফের জুফর আহমেদ ফারুকির যুক্তি ভিন্ন। তার কথায়, যেহেতু তারা একটা নতুন ধরনের মসজিদ বানাতে চাইছিলেন, তাই কোনো বিভাগের কাছ থেকে আলাদা করে এনওসি চাওয়া হয়নি।

বর্তমানে ট্রাস্ট গম্বুজ-আকৃতির একটি নতুন নকশা চূড়ান্ত করেছে। এটি ‘মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’ নামে নির্মিত হবে এবং ১৪০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে হবে। জুফর ফারুকি জানিয়েছেন, এই নকশাটি দ্রুত এডিএর কাছে জমা দেওয়া হবে এবং অনুমোদন পেলেই অনুদান সংগ্রহের কাজ জোরদার করা হবে। সব ঠিক থাকলে, আগামী বছরের মার্চ মাসের পর কাজ শুরু হতে পারে।

অযোধ্যা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ। হিন্দু পক্ষের দাবি ছিল, সেখানে একসময় মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০১০ সালে জমি ভাগ করে দিলেও ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট পুরো জমি ‘রামলালা বিরাজমান’-কে (রামচন্দ্রের বাল্যরূপ) দেয় এবং বিকল্প হিসেবে মুসলিমদের অযোধ্যাতেই ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। 

অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ, যেটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১৮৮৭ সালে তোলা। ছবি: সংগৃহীত 

রাম মন্দির নির্মাণ দ্রুত শেষ হলেও মসজিদের কাজে বিলম্ব নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মহম্মদ আজম বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে দূরে জমি দিয়েছে এবং ওয়াকফ বোর্ড ধীরগতিতে কাজ করছে।

অন্যদিকে বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি কুনোয়ার বাসিত আলি বলেছেন, এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। মন্দির নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ ছিল, মসজিদ নিয়ে সেই উৎসাহ বা জনগণের সহযোগিতা নেই; তাই ওয়াকফ বোর্ডকে ক্রমাগত চেষ্টা করতে হচ্ছে।

তবে ধন্নিপুর গ্রামের মানুষ এই বিলম্ব নিয়ে হতাশ। মিষ্টির দোকানদার মাজিদ বলেন, শুরুতে আগ্রহ থাকলেও এখন সবাই ধরে নিয়েছে ‘সবকিছু বাতিল হয়ে গেছে’। স্থানীয় বাসিন্দা নেহাল আহমেদ বলেন, শুধু সাংবাদিকরাই এখানে আসেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে তারা হয়রান। 

মসজিদের নতুন নকশা

এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বরখাস্ত হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরের নামে একটি নতুন মসজিদ তৈরির ঘোষণা করায় বিতর্ক আরও বাড়ে। আইআইসিএফ সেক্রেটারি আথার হুসেন তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা শুধু রাজনীতি’। হুসেনের মতে, বাবরের নামে মসজিদ তৈরি করাটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দশকের পর দশক ধরে বিতর্ক বহন করে এমন নাম বেছে নিলে তা আর উপাসনার পবিত্র উদ্দেশ্য পূরণ করে না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, ইসলামের মূল ভিত্তি হলো ‘তাকওয়া’ (আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ)। মসজিদে রাজনীতির কোনো স্থান নেই। হুসেন বিধায়ককে অনুরোধ করেন, বাবরের বদলে ‘কবির মসজিদ’ বা ‘হিন্দুস্তানি মসজিদ’-এর মতো নাম রাখতে, যা সম্প্রীতির বার্তা দেবে।

আইআইসিএফ ট্রাস্ট এই জমিতে মসজিদ ছাড়াও হাসপাতাল ও কমিউনিটি কিচেন তৈরির পরিকল্পনা করেছে। তবে আপাতত এই পুরো প্রকল্পই অর্থের অভাব, নকশার অনুমোদন এবং বিতর্কের জালে আটকে আছে।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা