প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫০ পিএম
শেখ হাসিনা ও এস জয়শঙ্কর
গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটিতে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে ‘তাকেই মনস্থির করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কী করবেন, সেটা পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি যে পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছেন, সেটা একটা বড় কারণ।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর)
নয়াদিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমসের লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও ও প্রধান সম্পাদক
রাহুল কানওয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের
সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে উন্নতির আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
দোর্দণ্ড প্রতাপে
টানা দেড় যুগ ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পালিয়ে
ভারত চলে যান এবং সেখানেই আছেন। ওই ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে সহিংস দমন-পীড়ন চালালে
অন্তত ১৪০০ মানুষ মারা যায়। আহতও হয় কয়েক হাজার মানুষ। গত বছরের জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী
অপরাধে দোষী সাব্যস্ত শেখ হাসিনাকে তারই তৈরি করা আন্তর্জাাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
গত মাসে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
শেখ হাসিনা ‘যতদিন
খুশি’ ভারতে থাকতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘দেখুন, এটা তো
অন্য ব্যাপার। তিনি একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছিলেন। আমার মনে হয়, সেই পরিস্থিতিটাই
ঠিক করে দেবে তার ক্ষেত্রে কী হবে। তবে আবারও বলছি, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে
হবে।’
এরপর ভারত ও বাংলাদেশের
সম্পর্কের দিকে নজর ঘুরিয়ে জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, ভারত এখন প্রতিবেশী এই দেশটিতে একটি
বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন বলে মনে করে।
বাংলাদেশের ‘অতীতের
রাজনৈতিক সমস্যার কথা’ তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা শুনেছি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ,
বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা আগেকার নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
যদি সেটাই সমস্যা হয়, তাহলে সবার আগে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করাই প্রধান কাজ হওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জয়শঙ্কর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত তার
প্রতিবেশীর জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের
ভালো চাই। আমরা মনে করি, একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে, যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশই দেখতে
চায় যে জনগণের ইচ্ছা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হচ্ছে।’
‘আর আমি মোটামুটি
নিশ্চিত যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যা-ই বেরিয়ে আসুক না কেন, তারা ভারত-বাংলাদেশের
সম্পর্ককে একটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখবে। আশা করি, সম্পর্ক
আরও ভালো হবে’ যোগ করেন তিনি।