প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০১:১৯ এএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৮ এএম
হংকংয়ের তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্টের একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭৯ জন বাসিন্দার খোঁজ মেলেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে লাগা আগুন মুহূর্তে একাধিক আবাসিক ভবনে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ৭০০–র বেশি দমকলকর্মী।
ওয়াং ফুক কোর্ট প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বাসিন্দার আবাসস্থল, যেখানে আগুন লাগার পর বহু বাসিন্দা ভবনের ভেতর আটকে পড়েন, তাদের উদ্ধারে চলছে অভিযান।
হংকংয়ের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ে এটি অন্যতম বড় আবাসিক অগ্নিকাণ্ড। এই আগ্নিকাণ্ডকে ‘লেভেল ফাইভ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা হংকংয়ের সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা স্তর।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, একটি শিশু এবং এক বয়স্ক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ বাসিন্দাই ধোঁয়ার কারণে ঘরের ভেতর আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সী এক দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় প্রাণ হারিয়েছেন। হংকং সরকার তাকে 'নিষ্ঠাবান ও সাহসী' হিসেবে বর্ণনা করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
নিখোঁজদের স্বজনেরা রাতভর ভবনের বাইরে অবস্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চাইছেন।
স্থানীয় কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, অনেকেই সোশাল মিডিয়ায় আটকে পড়া পরিবারের সদস্যদের খোঁজে বার্তা পাঠাচ্ছেন।
ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ভবনের বাইরের বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারকাজে চলছিল, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের খোঁজে তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
অগ্নিকাণ্ডের পর সরিয়ে আনা বাসিন্দাদের কয়েকটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া ছবি ও বিবরণে দেখা যায়—বাসিন্দারা এখনো দুশ্চিন্তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন, তাঁদের ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানার আশায়।
তাই পো জেলা কাউন্সিলর মুই সিউ-ফাং বিবিসিকে জানিয়েছেন, একটি মাত্র সরিয়ে নেওয়ার কেন্দ্রে এক হাজারের বেশি মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোম অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট এলাকায় বেশ কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দিয়েছে, পাশাপাশি কিছু স্কুলও স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আপাতত এসব আশ্রয়কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষ তাঁদের জন্য খাবার, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আবাসন ব্যবস্থার সর্বশেষ তথ্য দিয়েছেন শহরের আবাসনমন্ত্রী উইনি হো। তিনি জানিয়েছেন, একটি বিশেষ আবাসন টাস্কফোর্স দ্রুত জরিপ চালিয়ে হংকং আইল্যান্ড, কাউলুন ও নিউ টেরিটরিজ মিলিয়ে মোট ১,৪০০টি আবাসন ইউনিট চিহ্নিত করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য। এর মধ্যে প্রায় ২৮০টি ইউনিট তাই পো এলাকাতেই অবস্থিত।
মন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর ইতিমধ্যে ৪০ জন সরিয়ে আনা বাসিন্দা শান লিউ এলাকায় অবস্থিত একটি ট্রানজিশনাল হাউজিং প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করতে আবাসন বিভাগ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অগ্নিকাণ্ডে ঘরহারা মানুষদের সাময়িক আশ্রয়, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।