ফের উত্তপ্ত নেপাল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫০ এএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে যে রক্তাক্ত ‘জেন জি’ বিক্ষোভের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকার উৎখাত হয়েছিল, সেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গেই এবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল-এর সমর্থকরা।
গত বৃহস্পতিবার ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফাইড মার্কসিস্ট লেনিনিস্টের (সিপিএন-ইউএমএল) সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নেপালের বারা জেলার সিমারা শহরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি।
কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সেপ্টেম্বরে নেপালে এক প্রাণঘাতী গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ‘জেন জি’ নামে পরিচিত তরুণদের নেতৃত্বাধীন ওই অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও তাঁর সরকার ক্ষমতা হারায়। গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের ওই বিক্ষোভে অন্তত ৭৬ জন হন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলির দল এবং ‘জেন জি’ বিক্ষোভকারীরা বুধবার সিমারায় পৃথক সমাবেশ ডাকে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়।
বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে বারা জেলার সিমারা শহরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৫ মার্চ দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবারের সংঘর্ষের পর তিনি সব পক্ষকে শান্ত থাকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে কার্কি বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্র প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সংযম ও প্রস্তুতির সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে চাই।’
এর আগে বুধবার ১১০টিরও বেশি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কার্কি। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই দেশ নতুন প্রজন্মের হাতে থাকুক এবং দূরদর্শী মানুষের দ্বারা পরিচালিত হোক।’
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানে দেশটির অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিন কোটি মানুষের দেশটি চরম অস্থিরতার দিকে ধাবিত হয়। সে সময় সংসদ, আদালত ও সরকারি অফিসগুলোতে আগুন দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (৭৩) ক্ষমতাচ্যুত হন।