প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৩৪ এএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৩৮ এএম
শনিবার হামাসের আস্তানা দাবি তুলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ১৫ তলা বিশিষ্ট সুসি টাওয়ার। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
গাজা সিটি দখলের মিশনে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তারা চালিয়েছে ভয়াবহ তাণ্ডব। একদিনের ব্যবধানে ধসে দেওয়া হয়েছে আরও একটি বহুতল ভবন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সারাদিনের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৭ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। খবর আল জাজিরার
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে গাজা সিটিতে অল্প কয়েকটি স্থাপনা টিকে আছে। সেগুলোকেই টার্গেট করে একের পর এক বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। শনিবার হামাসের আস্তানা দাবি তুলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ১৫ তলা বিশিষ্ট সুসি টাওয়ার। ভবনটির বিপরীতে অবস্থিত জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ–র কার্যালয়।
এদিকে, বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলেও পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই বোমা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিমান হামলার পাশাপাশি দেইর আল বালাহ, খান ইউনিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পদাতিক বাহিনীও অভিযান চালাচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৪৩৫ জনে। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৬২ হাজার ৩৬৭ জন। ধারণা করা হচ্ছে, বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও থামার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না ইসরায়েল। শনিবার এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ গাজা সিটির একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখিয়ে লেখেন— ‘আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তেলআবিব দাবি করেছে, ধ্বংস হওয়া ভবনটি হামাস নজরদারির কাজে ব্যবহার করছিল। তবে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি এবং হামাসও অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গাজার ওপর চলমান এই লাগাতার হামলা, খাদ্য ও চিকিৎসা প্রত্যাশীদের ওপর গুলিবর্ষণ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডোর খোলার আহ্বান জানিয়েছে।
কিন্তু ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—গাজা সিটিতে অভিযান চলবে, থামবে না।
সূত্র: আল জাজিরা