ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য নীতি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৪ এএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩৪ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয়টি আরব দেশসহ বহু দেশের ওপর নতুন করে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৭ আগস্ট থেকে এই শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে (৩১ জুলাই) এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে অন্যায্য। নতুন শুল্ক ব্যবস্থা আমেরিকাকে আবার মহান ও ধনী করে তুলবে।
নতুন শুল্ক তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৪১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সিরিয়ার পণ্যের ওপর। এরপর রয়েছে ইরাক (৩৫%), লিবিয়া ও আলজেরিয়া (৩০% করে), তিউনিসিয়া (২৫%) এবং জর্ডান (১৫%)। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে ভারস্যমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুধু আরব দেশ নয়, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক দেশও এই নতুন নীতির আওতায় পড়েছে। সুইজারল্যান্ডের ওপর ৩৯ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ, তাইওয়ানের ওপর ২০ শতাংশ এবং তুরস্কের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। যেসব দেশের নাম নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, সেসব দেশের জন্যও ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বহু বছর ধরে অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু এই দেশগুলো নিজেদের বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পারস্পরিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হঠাৎ করে এত সংখ্যক দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রে, যাদের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই দুর্বল—এই নতুন শুল্কের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হ্রাস পাবে এবং রপ্তানি খাত বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এতে কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী বছরের অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই নীতির প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজার, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে।