প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৩২ পিএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় চার জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হস্তান্তর করা এ মরদেহগুলোর মধ্যে একটি ইসরায়েলি জিম্মির নয়।
এ নিয়ে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গোষ্ঠীটিকে চড়া মূল্য দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিরি বিবাস, তার দুই শিশু পুত্র কেফির ও এরিয়েল এবং চতুর্থ বন্দি ওদেদ লিফশিৎজের মরদেহ রেড ক্রসের হাতে তুলে দিয়েছে হামাস। তবে শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, হামাসের হস্তান্তর করা মরদেহগুলোর মধ্যে আলোচিত বিবাস পরিবারের শিশু কেফির বিবাস ও অন্যটি তার ভাই আরিয়েলের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় মরদেহটি তাদের মা শিরি বিবাসের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার কিংবা অন্য কোনো জিম্মির সঙ্গে এ মরদেহের মিল পাওয়া যায়নি।
এক বিবৃতিতে শিরি ও সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, চুক্তি অনুসারে হামাস চার নিহত জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। এক্ষেত্রে হামাস চুক্তির লংঘন করেছে।
এছাড়া এক ভিডিও বার্তায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী জিম্মি শিরি বিবাসের মরদেহ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে হামাস। শিরিসহ আমাদের জীবিত এবং মৃত সব জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করব। চুক্তির এ জঘন্য লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
নেতানিয়াহুর অভিযোগ, শিরি বিবাসের পরিবর্তে গাজার এক নারীর মরদেহ কফিনে রেখেছে হামাস। এটা খুবই নিন্দ্যনীয় আচরণ।
তবে হামাস পরিচালিত গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-তাওয়াবা বলেছেন, ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে শিরি বিবাসের দেহাবশেষ সম্ভবত অন্য দেহাবশেষের সঙ্গে মিশে গেছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু সরাসরি এবং নির্দয়ভাবে বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে শিরি বিবাস ও তার সন্তানদের মৃত্যুর পূর্ণ দায় তার ওপরই বর্তায়।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিরা মুক্তি পাচ্ছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী শনিবার ছয় জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। শিরি বিবাসের মরদেহ নিয়ে ইসরায়েলের অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে বাধা সৃষ্টি করে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।