এসসিও বৈঠক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৫৫ এএম
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বিমান থেকে অবতরণের পর তাকে স্বাগত জানান এক কূটনীতিক কর্মকর্তা। ছবি : সংগৃহীত
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে ইসলামাবাদে গেলেন এস জয়শঙ্কর। প্রায় নয় বছর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে গেলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ পাকিস্তান গিয়েছিলেন। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উত্তেজনা ও অবনতির কারণে আর কোনো ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান যাননি। দীর্ঘদিন পর এবার এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তান গেলেন জয়শঙ্কর। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই জানিয়ে দিয়েছে, জয়শঙ্কর ইসলামাবাদে এসসিও বৈঠকে যোগ দিলেও কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে না। বিলাওয়ালও যখন ভারত এসেছিলেন তখনও কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। জয়শঙ্কর আগেই জানিয়েছেন, এসসিও বৈঠক হলো বহুপাক্ষিক ইভেন্ট। আমি ওখানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি না। আমি সেখানে এসসিও সদস্য দেশের প্রতিনিধি হিসেবে যাচ্ছি। আমি একজন ভদ্র ও সুশীল মানুষ। আমি সে রকমই আচরণ করব।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারত বা পাকিস্তান কেউই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য কোনো অনুরোধ করেনি। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান প্রটোকল অনুযায়ী জয়শঙ্করকে অভ্যর্থনা জানাবে। এসসিও শীর্ষ বৈঠকের সময় যেন কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ইসলামাবাদজুড়ে সেনা নামানো হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের বহু সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমরানের দল পিটিআই আগে বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু পরে তারা জানিয়ে দেয়, এসসিও বৈঠক চলার সময় কোনো বিক্ষোভ দেখানো হবে না। এসসিও শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেওয়া নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকার তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। স্কুল, কলেজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব বন্ধ থাকছে। সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে। পার্লামেন্ট, দূতাবাস, বৈঠকস্থল, বিদেশি অতিথিরা যেখানে আছেন, সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং যখন ইসলামাবাদে পা দেন, তখন নিরাপত্তা লকডাউনের মধ্যে ছিল ইসলামাবাদ। ১১ বছর পর চীনের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানে এলেন। এরপর চীনের প্রধানমন্ত্রী বেজিংয়ের অর্থে বানানো একটি বিমানবন্দরের উদ্বোধনও করেন। ইসলামাবাদের এসসিও বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বেলারুশ, কাজাখস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। কিরঘিজিস্তানের মন্ত্রিসভার চেয়ারম্যান থাকবেন এবং ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বৈঠকে যোগ দেবেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করও থাকবেন। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং তুর্কেমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
আর্থিক, বাণিজ্যিক, পরিবেশগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এই সংগঠন কী কাজ করেছে তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসসিও শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে শাহবাজ শরিফ নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। জয়শঙ্কর সম্ভবত সেখানে থাকবেন। সাবেক কূটনীতিক অশোক সাজ্জানহার এনডিটিভিকে বলেছেন, এসসিও হলো বহুপক্ষীয় সংগঠন। এখানে রোটেশন করে সব দেশ এই বৈঠকের আয়োজন করে। ২০১৭ সালের পর থেকে ভারত এসসিওর সব বৈঠকে যোগ দিয়েছে। কিন্তু সব সময়ই পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেছেন। একবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিয়েছিলেন। তাই জয়শঙ্করই যে এসসিও বৈঠকে যাবেন, সেটা প্রত্যাশিত।