আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২২ ১৪:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২ ১৫:০৬ পিএম
শুক্রবার খাদ্যশস্য নিয়ে ইউক্রেনের চরনোমরস্ক বন্দর ছেড়েছে তুরস্কের পতাকাবাহী জাহাজ পোলারনেট
রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপদ চলাচল চুক্তির পর ইউক্রেনের খাদ্যশস্য নিয়ে আরও তিনটি জাহাজ দেশটির বন্দর ছেড়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বন্দর ছাড়ে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো গত সোমবার কৃষ্ণসাগরের ওডেশা বন্দর থেকে শস্যবাহী প্রথম জাহাজ ছেড়ে যায়।
জাহাজ বন্দর ছাড়ার পর ফেসবুকে এক বার্তায় ইউক্রেনের অবকাঠামো মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে যেতে আমাদের অংশীদার জাতিসংঘ ও তুরস্কের নিরাপত্তা নিশ্চিয়তা প্রত্যাশা করছি। তাতে আমাদের বন্দর থেকে রপ্তানি করা খাদ্য সব বাজারে অনুমানযোগ্য স্থিতিশীলতা আনবে।’
পাঁচ মাসের ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হওয়া ওই চুক্তিকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি আঙ্কারায় ওই চুক্তি হয়। এর ফলে ইউক্রেনের বন্দর থেকে শস্য নিয়ে জাহাজ নিরাপদে চলাচল শুরু করে। এর আগে জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হলে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়বে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলকে ‘নাৎসিমুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়ে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর ফলে কৃষ্ণ ও আজভ সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মস্কোর ওপর রেকর্ড পরিমাণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন খাদ্যশস্য উৎপাদন ও জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ দেশ হওয়ায় তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলাতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশ দুটি ওই চুক্তি করে।
শুক্রবার ওডেশা ও চরনোমরস্ক বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ তিনটিতে মোট ৫৪ হাজার টন খাদ্যশস্য রয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পানামা পতাকাবাহী নাভিস্টার জাহাজটি ওডেশা বন্দর ছেড়েছে। আয়ারল্যান্ডগামী ওই জাহাজে ৩৩ হাজার টন খাবার রয়েছে।
আর চরনোমরস্ক বন্দর ছেড়ে যাওয়া মাল্টার পতাকাবাহী রোজেন জাহাজ ১৩ হাজার টন শস্য নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে। তুরস্কের পতাকাবাহী পোলারনেট বহন করছে ১২ হাজার টন খাদ্যশস্য। এটি তুরস্কের কৃষ্ণসাগরের বন্দরে যাবে।
খাদ্যশস্যের পাশাপাশি এ চুক্তির মধ্যে এখন অন্যান্য পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের খাদ্যশস্য সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।
/প্রবা/এইচকে/সাদিক/