ফিলিস্তিনে গণহত্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ২২:৪৬ পিএম
মধ্য গাজায় আল আকসা মসজিদের সামনে মৃতদের নিয়ে স্বজনদের আহাজারি
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস পরবর্তী নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ করবেন বলে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘের ‘বৈশ্বিক শিশু নির্যাতন ও অধিকারহনন তালিকা’য় ইসরায়েলের নাম যুক্ত করবেন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাই এ সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের নাম যুক্ত করা হলে গাজায় দেশটির সামরিক বাহিনীর নির্বিচারে হত্যা কমে আসবে।
গুতেরেসের কার্যালয়ে
ইসরায়েলের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত গিলাদ এর্দানকে শুক্রবার ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে গাজায়
শিশুদের ওপর ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উত্থাপিত হবে। এই তালিকায় হামাসের নামও অন্তর্ভুক্ত
করা হবে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েল জাতিসংঘ
মহাসচিবের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম সংস্থা
থেকে এরদানের একটি ভিডিওবার্তা জাতিসংঘ মহাসচিবের অফিসে পাঠানো হয়েছে। ওই ভিডিওবার্তায়
বলা এরদান জানিয়েছেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হামাসকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। হামাস
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্কুল-হাসপাতাল নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এই সিদ্ধান্তের
মাধ্যমে ওদের সেখানে আত্মগোপনের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে। ফলে এই যুদ্ধ থামার বিষয়ে
কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’ গিলাদ এরদান জাতিসংঘের মহাসচিবের এমন সিদ্ধান্তকে
ন্যক্কারজনক বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘে
নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর জানিয়েছেন, ‘এই তালিকায় ইসরায়েলের নাম
যুক্ত করলে গাজায় নির্যাতিত মৃতদের ফিরিয়ে আনা যাবে না। কয়েক দশক ধরেই অভিযানের নামে
ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য এটিকে
আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছি।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্তের
মাধ্যমে নিজেদেরই কালো তালিকাভুক্ত করল।’ সম্প্রতি ইসরায়েলি বন্দিদের উদ্ধারে ইসরায়েলের
সামরিক বাহিনী গাজায় আল নুসেইরাত ক্যাম্পে অভিযান চালায়। শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে
বলা হয়, হামলায় ২১০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৪০০-এরও বেশি আহত হয়েছেন।
প্রতিনিয়ত ইসরায়েলি
সেনাবাহিনী তাদের অভিযানের কৌশল বদলাচ্ছে। ফলে গাজায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইসরায়েলের
সামরিক মন্ত্রণালয়ও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করলেও হতাহতের কোনো দায় নেয়নি। সম্প্রতি
গাজায় নারী ও শিশুমৃত্যুর হার অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ বিষয়ে হামাস নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়কেও কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব বিষয়টিকে উল্লেখ করে
হামাসকেও গাজায় শিশু নির্যাতনের জন্য দায়ী করছেন এবং তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত
করার কথা জানিয়েছেন। সূত্র : আরব নিউজ