রামেক হাসপাতাল
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:০৬ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৬ পিএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ডাক্তারদের রুমে রোগীর সন্তানকে আটকে রেখে পিটিয়ে আহত করেছেন হাসপাতালটির অন্তত ১৫ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার পর হাসপাতালের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই যুবকের নাম সুমন পারভেজ রিপন। পরে হাসপাতালে অবস্থিত পুলিশ বক্সের ইনচার্জ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। অহরহই এমন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্তব্যরত আসনার সদস্যদের বিরুদ্ধে। এমনকি হাসপাতালটিতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সুমন পারভেজ রিপন জানান, তার মায়ের বুকে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে গত ২ ফেব্রুয়ারি রামেক হাসপাতালের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক তার ইকোকার্ডিওগ্রাফিসহ নানান টেস্ট দেন। ওই রিপোর্ট নিয়ে সকালে চিকিৎসকের কাছে যান রিপন। রিপন বলেন, ‘এ সময় চিকিৎসক আমার রিপোর্ট না দেখে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে কথা বলছিলেন। আমি তাকে আবারও অনুরোধ করি আমার মায়ের কী হয়েছে তা রিপোর্ট দেখে জানাতে। এ সময় তারা দুর্ব্যবহার করে আমাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে সিনিয়র ওই চিকিৎসক চলে গেলে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে রিপোর্ট নিয়ে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তাদের রুমে ডাকেন। আমি তার কথামতো ওই রুমে যাওয়ার সাথে সাথে রুমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে ১৫ থেকে ২০ জন ইন্টার্ন ডাক্তার আমার ওপর হামলা করে। আমার বুকে, পিঠে ও হাত-পায়ে লাঠি ও হাত দিয়ে মারতে শুরু করে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বলে, সিজার নিয়ে আয়। ওর হাত-পা আর গলা কেটে ফেলব। এভাবে ১০ মিনিটের মতো তারা আমার ওপর নির্যাতন চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক নেতা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ কুমার মণ্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি এক পক্ষের কথা শুনেছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কথাও শুনব।’
এর আগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপককে একই কায়দায় পেটানো হয়। ওই ঘটনাতেও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে রাবির এক শিক্ষার্থী বহুতল হলের বারান্দা থেকে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সে ঘটনায় তার সহপাঠীরা কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৃত ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের একই কায়দায় মারপিট করা হয় হাসপতালের ওয়ার্ডে। পরে রাবির শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এসে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যান। এ ছাড়া হাসপাতালে কর্তব্যরত আসনার সদস্যদের বিরুদ্ধেও মাঝেমধ্যেই রোগীর স্বজনদের মারপিটের অভিযোগ পাওয়া যায়।
এসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রচার হলেও বুধবারের ঘটনা প্রমাণ করে, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা এসব নিয়মিত নির্যাতন সহ্য করে চলেছেন। এদিকে হাসপাতালটিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে সব খবর সংগ্রহ করা যায় না।