প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ২০:৫১ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ২১:২১ পিএম
প্রবা ফটো
ডেঙ্গু
নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রশ্ন করতে
বারণ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে
এডিস মশা নিধনে ব্যর্থতার জন্য আবারও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দূষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার
(১৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের
প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ’ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে
হবে। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে একটা লম্বা পরিকল্পনা, সারা বছরের পরিকল্পনা পৌরসভা ও
সিটি মেয়রদের নিতে হবে। সেটি না হওয়ার কারণে এখনও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। প্রতিদিনই
মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে।’
নিজের নির্বাচনী এলাকা মানিকগঞ্জে গিয়ে হাসপাতালে ৫০০ ডেঙ্গু রোগী দেখেছেন
জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে পাঁচটা রোগী ছিল না, এখন ৫০০ রোগী কোথা
থেকে এলো। সেখানে ড্রেন আছে, পানি ওখানে জমে আছে, ময়লা পড়ে আছে, এগুলো পরিষ্কার না
করলে, ওষুধ ব্যবহার না করে খালি বড় বড় কথা বললে তো আর ডেঙ্গু কমবে না। ডেঙ্গুর জন্য
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যে পদক্ষেপগুলো দেখছি এখন তা পর্যাপ্ত নয়। এখন
পর্যন্ত আমাদের আড়াই লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ লোক
মৃত্যুবরণ করেছে। এটা তো একটা অনেক বড় সংখ্যা। আমরা খুবই দুঃখিত।’
কারও অবহেলা না-কি অন্য কোনো কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এ প্রশ্নটা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনকে করলে সেটা যুক্তিসঙ্গত হতো। যারা মশা নিধন করে, যারা ময়লা সাফ করে, যারা ড্রেন সাফ করে, যারা ময়লা গাড়িতে নিয়ে যায়, এটি তাদের দায়িত্ব। স্বাস্থ্য বিভাগের এটা দায়িত্ব নয়। এ ধরনের প্রশ্ন স্বাস্থ্য বিভাগকে করবেন না। আমাদের প্রশ্ন করবেন, চিকিৎসার কী ব্যবস্থা নিলেন আপনারা? চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি আছে কি-না? চিকিৎসার বিষয়ে বলতে পারি এখানে কোনো ঘাটতি নেই।’
ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের
প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যথেষ্ট পরিমাণে
শয্যা আছে। শুধু ঢাকায় নয় সব জেলা ও উপজেলায় পৃথকভাবে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সব জায়গায় যাতে যথেষ্ট পরিমাণে ফ্লুয়েড বা স্যালাইন থাকে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও স্যালাইন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন আর স্যালাইনের
কোনো ঘাটতি নেই।’
১৭ দিনে ২০১ মৃত্যু
চলতি মাসের ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে মৃতের
সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত এ রোগে আরও ৯ জনের মৃত্যু
হওয়ায় চলতি মাসের এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০১ জনে। এ নিয়ে চলতি বছর এ রোগে ১
হাজার ১৯০ জন মারা গেল। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন
সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল
৮টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২ হাজার
৬০৯ জন। এতে চলতি মাসে ৪১ হাজার ২৯২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। ওই ২৪ ঘণ্টায়
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৬০৯ জন। এ সময়ের মধ্যে ঢাকায় ডেঙ্গু শনাক্ত
হয়েছে ৫৬১ জনের। ঢাকার বাইরে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৮ জনের। ওই ২৪ ঘণ্টায় ছাড়প্রাপ্ত
রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৫২৫ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৫৩৮ এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৯৮৭ জন।
চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত
হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা
৮৯ হাজার ৯৫৬ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৮ জন। ঢাকাসহ সারা দেশে বর্তমানে
হাসপাতালে ভর্তি আছে ৮ হাজার ২২৪ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ২ হাজার ৪১০ জন
এবং ঢাকার বাইরে ৫ হাজার ৮১৪ জন।
সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত
রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ৫৯৮ জন। এ সময় ৩৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত
রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১ হাজার ৯৭৬ জন এবং ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়। জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়
৪৩ হাজার ৮৫৪ জন এবং মৃত্যু হয় ২০৪ জনের।
২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন মারা যায়। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬২ হাজার ৩৮২ জন। ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়।