প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৩ ১১:০৪ এএম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রথম রোগীর ভর্তির প্রথম নবজাতক জন্মগ্রহণ করেন এরপর উদ্বোধনের পর ভিসি তা ঘুরে দেখেন। ছবি : ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (৫ জুলাই) সকালে হাসপাতালটির প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের উদ্যোগে একজন প্রসূতি মায়ের অপারেশনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ কার্যক্রমও চালু হয়েছে। এর মধ্যেই গাইনি বিভাগে পাঁচটি অপারেশন হয়েছে। ব্রেস্ট সার্জারি হয়েছে দুইটি, ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি হয়েছে একটি।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অবকাঠামো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১৪টি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক) নিয়মিত রোগী দেখছেন। এখানে ল্যাবরেটরি প্যাথলজি টেস্ট করা হচ্ছে। এমআরআই, সিটি স্ক্যানও করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪০ হাজারের মতো পরীক্ষা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এমআরআই ৫৫৬টি, সিটি স্ক্যান ৩১৩টি, বিএমডি ১১টি, বায়োকেমিস্ট্রি টেস্ট ২০ হাজার ৩৭৫টি, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি ৩ হাজার ৪৭৬টি, ভাইরোলজি ২ হাজার ২৫০টি, হেমাটোলজি ২ হাজার ৯টি, ল্যাবরেটরি মেডিসিন ৪ হাজার ৯৮৩টি অর্থাৎ মোট ৩৩ হাজার ৯৩টি টেস্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসিজি ৮১টি, ইটিটি ৯টি সম্পন্ন করা হয়েছে। হাসপাতালটি পরিচালনা করতে ১ হাজার ৮০০ জনবল প্রয়োজন।
গতকাল হাসপাতালে কনফারেন্স হলে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ ও অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
তিনি আরও জানান, রোগীদের যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয় এবং দেশেই রোগীরা লিভার, কিডনি, হার্টের রোগ, ক্যানসার, বন্ধ্যত্ব, জয়েন্ট নি রিপ্লেসমেন্টসহ সব ধরনের জটিল রোগের সর্বাধুনিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পান সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই হাসপাতালে। স্টেম সেল থেরাপি, জিন থেরাপির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোবটিক সার্জারিও শিগগিরই চালু করা হবে। এ ছাড়া রয়েছে বিশ্বমানের এনআইসিইউ, পিআইসিইউ, আইসিইউসহ সব ধরনের আইসিইউ ব্যবস্থা। এ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ১০০ শয্যার আইসিইউ, জরুরি বিভাগে আছে ১০০টি শয্যা, আছে ৬টি ভিভিআইপি কেবিন, ২২টি ভিআইপি কেবিন এবং ২৫টি ডিলাক্স শয্যা। সেন্টারভিত্তিক প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে ৮টি করে শয্যা। হাসপাতালটিতে রয়েছে নিউম্যাটিক টিউব, যার মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের পর অটোমেটিক্যালি নির্দেশিত বিভাগে চলে যায়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কারণে অন্তর্বিভাগ ও অপারেশন চালু করতে বিলম্ব হয়েছে। কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট না আসার কারণে, যার কারণ ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। তবে আমরা আউটডোর ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম আরও আগেই শুরু করে দিতে পেরেছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালটি অনেক রোগীর বিদেশে যাওয়া ঠেকাবে বলে মনে করেন তিনি।