লিনা আক্তার
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ২০:১৪ পিএম
মাংস থেকে তৈরি যেকোনো খাবার এমনকি মাংসজাত খাবারের সংস্পর্শ থেকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। ছবি: ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর ওয়েসবাইট
লাল মাংস বা রেড মিট অ্যালার্জি যাকে আলফা-গ্যাল সিনড্রোম বা এজিএসও বলা হয়। এটি এক ধরনের খাদ্য অ্যালার্জি যা অনেক সময় গুরুতর হতে পারে। কখনও কখনও অ্যালার্জি হঠাৎ করে দেখা দিতে পারে এবং কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
এজিএস খাদ্য অ্যালার্জি সাধারণত একটি শর্করা অণু (গ্যালাকটোজ-আলফা-১,৩-গ্যালাকটোজ) দ্বারা সৃষ্ট হয়। এই অণুটি মানুষের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে, যা অ্যালার্জিক অ্যান্টিবডি (IgE) তৈরি করে এবং দীর্ঘস্থায়ীও হয়। এর ফলে, ভবিষ্যতে মাংস থেকে তৈরি যেকোনো খাবার (গরুর মাংস, শূকরের মাংস, ভেড়ার মাংস) এমন কি মাংসজাত খাবারের প্রতি এই অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে।
অনেক সময় এসব মাংসের সংস্পর্শে আসার কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে। যা সাধারণত হালকা পেট খারাপ থেকে শুরু করে অ্যানাফাইল্যাক্সিস পর্যন্ত হতে পারে।
প্রচলিত খাদ্য অ্যালার্জি সাধারণত খাবারের প্রোটিনের কারণে হয় এবং এর প্রতিক্রিয়া প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেখা দেয়। অপরদিকে এজিএস হলো কার্বোহাইড্রেটের প্রতি একটি প্রতিক্রিয়া। এর লক্ষণগুলো সাধারণত খাওয়ার তিন থেকে ছয় ঘণ্টা পর দেখা দেয়। এই অ্যালার্জির কারণে রোগীরা প্রায়শই বছরের পর বছর ধরে উপসর্গ নিয়ে বেচে থাকেন। কিন্তু লক্ষণ জানা না থাকার কারণে সঠিক রোগ নির্ণয় হয় না।
প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
এই ধরনের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে প্রায়শই আমবাত, শ্বাস নিতে অথবা গিলতে অসুবিধা, পেটব্যথা, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কখনও কখনও এই লক্ষণগুলো গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। লাল মাংস বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর যদি আপনার এই লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দেয় তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করা উচিত। যদি আপনার সন্দেহ থেকে থাকে যে আপনি মাংসের সংস্পর্শে এসেছেন, তাহলে ফুড অ্যালার্জির রক্ত পরীক্ষা করুন।
মাংসের অ্যালার্জি থাকলে, আপনি যে ধরনের মাংসে অ্যালার্জিক তা খেলেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই প্রতিক্রিয়ায় উপসর্গ দেখা দিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। যেমনটা গরুর মাংস এবং আলফা-গ্যাল অ্যালার্জির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আপনার শরীর যখন হিস্টামিন নামক একটি রাসায়নিক রক্তপ্রবাহে নিঃসরণ করে, তখন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া ঘটে। হিস্টামিনের তাৎক্ষণিক ও গুরুতর প্রভাব থাকতে পারে, যা রক্তনালীকে প্রসারিত করে এবং শ্লেষ্মা উৎপাদনকারী কোষগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে আপনার ত্বক, পরিপাকতন্ত্র এবং শ্বাসতন্ত্রে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে
অ্যালার্জির চিকিৎসা
বর্তমানে এই অ্যালার্জির কোনো প্রতিকার নেই। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করতে পারে।
১. অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞরা সাধারণত আলফা-গ্যালযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যার মধ্যে গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস, শূকরের মাংস এবং হরিণের মাংসের মতো মাংস অন্তর্ভুক্ত। এই খাবারগুলো এড়িয়ে চললে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া এবং এর উপসর্গগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।
২. অনেক সময় অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে আগে থেকেই হিস্টামিন ওষুধ খেয়ে থাকে। এটিও করতে পারেন।
৩. বাইরে খেতে গেলে রোগীদের অবশ্যই খাবারের উপকরণ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে এবং খাবারের বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। কিছু রোগী রান্নার ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করা অথবা জেলাটিনযুক্ত ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট থেকেও অনেক সময় আক্রান্ত হতে পারেন।
৪. অ্যালার্জির ঝুঁকি সামাল দিতে, এজিএস রোগীদের অল্প প্রতিক্রিয়ার জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন এবং অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ঝুঁকি থাকলে ব্যবহারের জন্য এপিনেফ্রিন অটো-ইনজেক্টর সাথে রাখা উচিত।
লেখক: রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর
সোর্স: Food Allergy atlanta, verywell Health , Myoclinic.org/ disease, phychology Today