ফাইল ছবি
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কেন কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রিট পিটিশনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম গত ১৭ মে এ রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন।
পিটিশনে হামের টিকা কেনায় অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের ভূমিকা তদন্ত করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সাথে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আবেদনে তিনি বলেন, “ইউনিসেফ ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিল। তবুও ড. ইউনূস কিংবা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা শিশুদের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেননি”।
ব্যারিস্টার আশরাফুল গণমাধ্যমকে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হামের টিকাদান প্রক্রিয়াকে অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তর করে। শুনানির সময় রিট আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল”।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকেদের বলেন, “আদালতের নির্দেশনাগুলো হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান পদক্ষেপের পরিপূরক। রিটকারীরা এমন কিছু নির্দেশনা চেয়েছিলেন যেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় ছিল, যা বাস্তবসম্মত নয়”।
তিনি আরও বলেন, “আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রুল জারি করেছে। এর মধ্যে একটি বিষয় হলো হামজনিত কারণে টিকার অভাবে যে ৩৪৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তাদের পরিবারকে কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তা ব্যাখ্যা করতে হবে”।