রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ২১:৪৩ পিএম
উপকূলীয় জেলা বরগুনা। প্রতি বছরই কোনো না কোনো সংক্রামক রোগের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এই জনপদ। কখনও ডেঙ্গু, কখনও হাম আবার কখনও ডায়রিয়া- দিন দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল এখন নিজেই ভুগছে ভয়াবহ জনবল সংকটে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অবকাঠামোর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগী।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে জেলায় চিকিৎসকের
অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। অথচ বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৮ জন চিকিৎসক। আর বরগুনা
জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও ভয়াবহ। হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৮১টি হলেও
প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ চিকিৎসক।
এর মধ্যে দুজন রয়েছেন ওএসডি হিসেবে, একজন দাঁতের চিকিৎসক এবং একজন
হোমিও চিকিৎসক। এ ছাড়া একজন চিকিৎসক
যোগদানের পর আর কর্মস্থলে ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং চারজন চিকিৎসকের
উপস্থিতি সীমাবদ্ধ সপ্তাহে মাত্র একদিন।
সব মিলিয়ে কার্যত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন
মাত্র ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসক। এই অল্পসংখ্যক চিকিৎসকই প্রতিদিন লড়াই করছেন উপকূলের লাখো
মানুষের জীবন বাঁচাতে। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্স সংকটও। ১০৯টি অনুমোদিত
পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬৫ জন নার্স।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু রোগীরা। শিশুদের জন্য নির্ধারিত
৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। জায়গা সংকটের কারণে অনেক শিশুকেই
চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, এমনকি সিঁড়ির পাশেও। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
এবং ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ।
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল
বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন
ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট চললেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল
নিয়োগ না দিলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে।’
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজাওয়ানুর
আলম বলেন, সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে পালন
করতে হচ্ছে প্রশাসনিক দায়িত্বও। ফলে চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। হাসপাতালে
চিকিৎসক ও নার্স সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল
দিয়েই আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।