ফর্টিফাইড আটার সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি মোকাবেলায় মিলার্স ফর নিউট্রিশন (টেকনোসার্ভ কর্তৃক পরিচালিত) এর উদ্যোগে রবিবার (১৭ মে) ঢাকার গুলশানে লেকশোর হাইটস হোটেলে ফর্টিফাইড আটার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালায় অংশ নেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মিল মালিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞসহ আরও অনেকে। কর্মশালায় ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি মোকাবেলায় আটায় অনুপুষ্টি উপাদান সংযোজনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
টেকনোসার্ভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম
ম্যানেজার গুলজার আহম্মেদ উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতির কারণে
দেশে লাখো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। খাবারে পুষ্টিমান সমৃদ্ধিকরণ প্রযুক্তি ও সমন্বিত
প্রচেষ্টা থাকলে, এই সমস্যা সহজেই সমাধানযোগ্য।’ তিনি সরকারি, বেসরকারি এবং উন্নয়ন
সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব
বলেন, ‘ফর্টিফাইড আটা শুধু পুষ্টির নিশ্চয়তা দেয় না, এটি একটি টেকসই জনস্বাস্থ্য
কৌশল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন সময় এসেছে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে প্রসারিত করার, কারণ জনগণ
দিনে দিনে আরও বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক-এসডিএম আফিফ আল মাহমুদ ভূঁইয়া, বিএসটিআই-এর উপপরিচালক এসএম আবু সাঈদ, এবং বাংলাদেশ
ফ্লাওয়ার মিলার্স ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান কর্মশালার সভাপতিত্ব
করেন।
টেকনোসার্ভের সিনিয়র ফুড ফর্টিফিকেশন
স্পেশালিস্ট নাঈম জোবায়ের তার মূল প্রবন্ধে বলেন, ‘আটায় পুষ্টি উপাদান সংযোজন একটি
সহজ, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সমাধান। এটি কেবল স্বাস্থ্য উন্নয়ন নয়, অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদে
ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ তিনি প্রযুক্তিগত দিক, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনের জায়গাগুলো
স্পষ্টভাবে কর্মশালায় তুলে ধরেন।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনায় মিল
মালিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকারীরা,
সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার
মিলার্স ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মঈন উদ্দিন মাসুদ এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
মীর শাকরুল আলম সীমান্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিগগিরই দেশের ওএমএস
কর্মসূচিতে আটা ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করবে। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন, মিলার্স
ফর নিউট্রিশন কর্মসূচিটির স্ট্র্যাটেজিক ফর্টিফিকেশন পার্টনার হেক্সাগন নিউট্রিশন,
বুলার এবং উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা ডব্লিউএফপি, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং গেইনের প্রতিনিধিরা।
সবাই গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন এবং বাংলাদেশে খাদ্য ফর্টিফিকেশন উদ্যোগসমূহকে
সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাপনী বক্তব্যে খাদ্য অধিদপ্তরের
পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান অংশগ্রহণকারীদের
আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ফর্টিফাইড আটার মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মনীতি সংক্রান্ত
গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি
নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই কর্মশালা একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে যেখানে প্রযুক্তি,
নীতি ও প্রতিশ্রুতি একসাথে ভবিষ্যৎ অনুপুষ্টির অভাবমুক্ত বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে। কর্মশালাটি
একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খাদ্য ফর্টিফিকেশন
কর্মসূচির প্রসারে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।’
মিলার্স ফর নিউট্রিশন কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে
স্ট্র্যাটেজিক ফর্টিফিকেশন পার্টনার- বিএএসএফ, বায়োঅ্যানালিট,
ডিএসএম-ফারমেনিস, মুলেনকেমি ও স্টার্নভিটামিন; আঞ্চলিক সহযোগী- হেক্সাগন নিউট্রিশন, পিরামাল ও সাংকু; এবং ক্রমবর্ধমান স্থানীয়
কারিগরি অংশীদারদের সমন্বয়ে। এই উদ্যোগের অংশীদাররা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি
উন্নয়ন এবং ফর্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ এবং
ব্যবসার টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মিলার্স ফর
নিউট্রিশন কার্যক্রমটি টেকনোসার্ভের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গেটস
ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত।
আরকে/প্রবা