প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ ১৫:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬ ১৫:২৯ পিএম
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মহিউদ্দিন মুহিত। ফাইল ছবি
জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে প্রকাশিত নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উদ্বোধনী কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট `কমপেনডিয়াম অব কেস স্টাডিস অন সারভিক্যাল ক্যান্সার এলিমিনেশন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: খাদ্যাভ্যাস বদলে ক্যান্সার থেকে মুক্তি |
প্রতিবেদনে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের সফল উদ্যোগ তুলে ধরা হয়, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে সুরক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে এক ডোজের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঢাকা বিভাগে ১৫ লাখের বেশি মেয়েকে টিকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করা হয়, যার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য বিভাগে ৬২ লাখের বেশি মেয়েকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার এবং রোশ ডায়াগনস্টিকসের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনটি ফোরামে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নারীদের মধ্যে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যান্সার মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান খুঁজতেই কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবেদনে কমনওয়েলথের ১২টি দেশের কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, আর্থিক সংকট ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের মধ্যেও দেশগুলো কীভাবে টিকাদান, স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে কাজ করছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ফলো-আপ ও কর্মসূচির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে বড় পরিসরে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।