প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ১৪:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬ ১৪:৪৪ পিএম
শাহবাগে আয়োজিত লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনারে বক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রক্রিয়াজাত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা জানান, রুটি, সস, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ফাস্ট ফুড, বেকারি পণ্য, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ নানা খাবারে লুকানো সোডিয়াম মানুষের অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) হলরুমে বুধবার ‘লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
১১ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত এ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘চলুন সবাই মিলে খাবারের লবণ কমাই একসাথে’, যা যৌথভাবে আয়োজন করে বিএফএসএ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (এনএইচএফবি)।
সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।
ফারুক আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এখন জনস্বাস্থের জন্য নীরব হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি খাদ্য মোড়কে স্পষ্ট পুষ্টি তথ্য, শক্তিশালী লেবেলিং ব্যবস্থা এবং উৎপাদকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে বছরে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশে গড়ে একজন মানুষ দৈনিক ৯ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ করে, যেখানে আদর্শ মাত্রা ৫ গ্রামের কম। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি রোগ, ভাসকুলার ডিমেনশিয়া, অস্টিওপোরোসিস ও পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তিনি আরও জানান, আইএইচএমইর ২০২৩ সালের গবেষণা অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ লাখ ৭০ হাজার মৃত্যু সরাসরি উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে এবং এর ৫১ শতাংশ অকাল মৃত্যু, যেখানে হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৩৪ শতাংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এনএইচএফবির গবেষক আহমেদ খায়রুল আবরার বলেন, তরুণদের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে এখন অসুখ না থাকলে লবণ কমানোর প্রয়োজন নেই। অথচ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে কম লবণ গ্রহণ জরুরি।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. সাইদুল আরেফিন এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।
তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা সামিনা ইসরাত বলেন, খাদ্য মোড়কের সামনে সতর্কীকরণ পুষ্টি লেবেল চালু জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা রান্নায় কম লবণ ব্যবহার, আলাদা লবণ না খাওয়া এবং পুষ্টি তথ্য দেখে খাদ্য কেনার পরামর্শ দেন।