আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগ নির্ণয় ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ রাউন্ড টেবিল সেশন আয়োজন করে ইউনিকো হসপিটাল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ভালভিউলার হার্ট ডিজিজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ রাউন্ড টেবিল সেশন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগ নির্ণয় ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আয়োজন করে ইউনিকো হসপিটাল।
‘আপডেট ইন ম্যানেজমেন্ট অফ ভালভিউলার হার্ট ডিজিজ: ইনহেন্সিং অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড কেয়ার’ শীর্ষক এ সেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জন্য ভালভিউলার হার্ট ডিজিজের সর্বশেষ ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি ও আধুনিক চিকিৎসা কৌশল সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা।
পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত সচেতনতা জোরদার এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরও পড়ুন: হাম আবার কেন ফিরল, কী ঘটছে? |
সেশনের মূল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. ফাইজুস সাজ্জাদ। তিনি ভালভিউলার হার্ট ডিজিজের নির্ণয়, চিকিৎসা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে এ রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মোস্তাক ইবনে আয়ুব, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. জাহিরুল ইসলাম (শাকিল)। তিনি চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক আলোচনায় অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়ন এবং রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে”।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. জাহির রায়হান। তিনি স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিকো হসপিটালের সিইও আর্দ্রা কুরিয়েন, বিভিন্ন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, চিকিৎসক, অতিথি ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, “বাংলাদেশে ভালভিউলার হার্ট ডিজিজের প্রকোপ বাড়ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রোগীদের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, ধারাবাহিক মেডিক্যাল শিক্ষা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন”।
বক্তারা আরও বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য টেকসই সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, চিকিৎসক এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রোগের ক্রমবর্ধমান চাপ, চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় এবং মানবিক বিষয় বিবেচনায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, সকলের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত কার্ডিয়াক সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।