মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি হামে আক্রান্ত রাফসান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হাম নিয়ন্ত্রণে এলেও ফিরবে না অকালে হারিয়ে যাওয়া সেইসব শিশু। মায়ের শূন্য কোল আর শোকাতুর হৃদয় বয়ে বেড়াবে চিরস্থায়ী এক হাহাকার। হয়তো কোনো এক সময় হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু হামে প্রাণ হারানো ৪ শতাধিক শিশুর ক্ষতি অপূরণীয়, যা কোনো প্রাপ্তিতেই কখনও পূরণ হবে না।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন হামে এবং বাকি ৭ জন রোগটির উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে ৬৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ৫৭ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৪০৯ জনের, যা গত শনিবার ছিল ৩৫২। অর্থাৎ হাম সন্দেহে মৃত্যু ৫৭ জনের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে হাম সন্দেহে মৃত ৫৭ জনের তথ্য হালনাগাদ করা প্রসঙ্গে বলা হয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাপ্ত সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য সমন্বয় করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৫০৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত এ সংখ্যা ৪৯ হাজার ১৫৯ জন। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২০৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত রোগী ছয় হাজার ৮১৯ জন। দিনাজপুর জেলার সঙ্গে তথ্য সংশোধন করায় হাম রোগীর সংখ্যা কমেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ৯০৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০ হাজার ৮৬২ জন।
হামে মৃত শিশুদের পরিবারপ্রতি ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট : এদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর প্রতিটি পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৫৫ দিনে ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবেই গড়ে প্রতিদিন অন্তত ছয়জন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। তবে গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে গড়ে প্রতিদিন ১০ জনে পৌঁছেছে।
হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসার আশ্বাস দেওয়ার মধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা দেড়গুণ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা বিভাগ এবং সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর বিভাগ। গত শনিবারও ৯ শিশু হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সরকারি হিসাব সঠিক বলে ধরে নিলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।