× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস

আক্রান্ত প্রমোদতরীর নাবিকদলের মধ্যে রয়েছেন ২ ভারতীয়

এনডিটিভি

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ১০:০১ এএম

আপডেট : ১০ মে ২০২৬ ১০:২৮ এএম

হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছে এমভি হন্ডিয়াস প্রমোদতরী। ছবি: এএফপি

হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছে এমভি হন্ডিয়াস প্রমোদতরী। ছবি: এএফপি

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত এমভি হন্ডিয়াস প্রমোদতরীটিতে দুজন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই ভাইরাস কোভিড-১৯ থেকে ভিন্নভাবে ছড়ায়, তবে এটি বর্তমানে মহামারির মতো হুমকি তৈরি করছে না।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ভারতীয় নাগরিকসহ ক্রু সদস্যদের বহনকারী ডাচ অভিযাত্রী ক্রুজ জাহাজটিতে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এমভি হন্ডিয়াস গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ১০ মে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এই প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ শনাক্ত হওয়া অ্যান্ডিজ স্ট্রেইনই একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস, যা সীমিতভাবে মানুষে ছড়াতে পারে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন যাত্রাপথে জাহাজ থেকে নামা যাত্রীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

ক্রু সদস্যদের মধ্যে দুই ভারতীয়

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিলাসবহুল এই ক্রুজ জাহাজে শুরুতে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন।

তাদের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৮ জন, যুক্তরাজ্যের ৩১ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ জন, নেদারল্যান্ডসের ১৬ জন, স্পেনের ১৪ জন, জার্মানির ৯ জন, কানাডার ৬ জন এবং ভারতের দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটজন সন্দেহভাজন হান্টাভাইরাস রোগীর মধ্যে পাঁচজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। 

আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এক ডাচ নারী পরে মারা যান। মৃতদের মধ্যে ওই নারীর ডাচ স্বামী এবং একজন জার্মান যাত্রীও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।  

ডব্লিউএইচও আরও জানায় ওই ডাচ ব্যক্তি জাহাজেই মারা যান।পরে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে তার মরদেহ নামানো হয়।

ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনা দ্বীপে অন্তত ১২টি দেশের ২৯ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমে যান। তাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক।

‘এটি কোভিড নয়’: ডব্লিউএইচও

ডব্লিউএইচওর সংক্রামক রোগবিষয়ক মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভে জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ মহামারির সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

তিনি বলেন, “এটি কোভিড নয়, এটি ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ছড়ায়।”

তিনি আরও জানান, এমভি হন্ডিয়াসে থাকা সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যারা সন্দেহভাজন রোগীদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের জন্য ‘উচ্চমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজা হচ্ছে সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, অ্যান্ডিজ স্ট্রেইনের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকায় আগের কয়েকটি প্রাদুর্ভাবে সীমিত আকারে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তকারীরা এখন জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি জাহাজের ভেতরে সংক্রমণ কীভাবে ছড়িয়েছে, তা বিশ্লেষণ করছেন।

সংক্রমণ নিশ্চিত করতে এবং ভাইরাসটি যাত্রার আগে নাকি চলাকালে ছড়িয়েছে তা বোঝার জন্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরটি-পিসিআর পরীক্ষা, অ্যান্টিবডি বিশ্লেষণ এবং জিনোম সিকোয়েন্সিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

এমভি হন্ডিয়াসে হান্টাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের পর বহু দেশের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগারভিত্তিক তদন্ত এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ।

যদিও ডব্লিউএইচও বলছে, সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এখনও কম, তবে জাহাজে ভারতীয় ক্রু সদস্য থাকার বিষয়টি ভারতে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা