× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভুয়া নার্সের চেষ্টায় প্রসূতির গর্ভে সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ

ফেনী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ০৯:১১ এএম

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬ ০৯:২১ এএম

সেবিকা পরিচয় দেওয়া অভিযুক্ত নারী ছকিনা আক্তারকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সেবিকা পরিচয় দেওয়া অভিযুক্ত নারী ছকিনা আক্তারকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফেনীতে নার্স পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক প্রসূতির বাড়িতে প্রসব করানোর চেষ্টার পর গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে অবস্থিত ফেনী কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওই প্রসূতি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

রোগীর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার দরবেশেরহাট নোয়াদ্দা এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (২১) মঙ্গলবার দুপুরে প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন।

এ সময় ছকিনা আক্তার নামের এক নারীকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়, যিনি (ছকিনা) নিজেকে ফেনী কেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র নার্স হিসেবে পরিচয় দেন বলেও দাবি পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের।

তারা জানান, এরপর ওই নারী সারাদিন স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও দাবি করেন, এরপর সন্ধ্যার দিকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর রাজিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন দ্রুত তাকে ফেনী কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও চিকিৎসা সেবায় বিলম্বের অভিযোগ করে পরিবারটির সদস্যরা। 

প্রসূতির স্বামী মনির হোসেন অভিযোগ করেন, ছকিনা আক্তার একটি ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে নিজেকে সিনিয়র নার্স পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে চেনেন না বলে দাবি করে।

পরে তারা স্বীকার করেন, ছকিনা হাসপাতালের মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, জানান মনির।

তিনি বলেন,“আমার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পরও যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবহেলার কারণে আমার সন্তান জন্মের আগেই মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।

জহিরুল ইসলাম পিয়াস নামে পরিবারটির এক স্বজন বলেন, কমিশন বাণিজ্য ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই হাসপাতালেই ফেনীর সিভিল সার্জন চেম্বার করেন, এখন আমরা বিচার চাইব কার কাছে?

আরেক স্বজন কামরুজ্জামান নিলয় অভিযোগ করেন, গ্রামের দরিদ্র নারীদের টার্গেট করে কমিশনের বিনিময়ে ভুয়া সেবিকা তৈরি করা হচ্ছে। হাসপাতালে সময়মতো সেবা পেলে হয়তো শিশুটি বেঁচে যেত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেবিকা পরিচয় দেওয়া ছকিনা আক্তার দাবি করেন, “আঁরে (আমাকে) ফেনী কেয়ার হাসপাতালতুন সিনিয়র সেবিকা পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড করি দিছে (করে দিয়েছে)। আই নাইন (নবম) পর্যন্ত হড়ছি (পড়েছি)। 

“হাসপাতাল সিজার অপারেশনের ১৮ হাজার টেয়ার (টাকার) চুক্তির রোগী আইনলে (আনলে) আঁরে ২ হাজার আর নর্মাল ডেলিভারির রোগী প্রতি এক হাজারতুন ১৫০০ টেয়া (এক হাজার থেকে ১৫০০ টাকা) দেয়।”

অভিযুক্ত ছকিনা আক্তার আরও দাবি করেন,, “আইজ্জা ইয়ানে (আজ এখানে) আইবার হরে (আসার পর) বেশি সময় নিছে। হাসপাতালের ডাক্তার, লোকজন আর জিনিসপত্রও ঠিকমতো আছিল (ছিল) না।”

তবে হাসপাতালের দায়িত্বরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবদুর রহমান বলেন, “রোগী আনার পর আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি।”

হাসপাতালের পরিচালক আলা উদ্দিন আলো জানান, মার্কেটিংয়ের জন্য কিছু ব্যক্তি কাজ করলেও তাদের সেবিকা পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, সাত্তার নামে হাসপাতালে কর্মরত সাবেক এক ব্যক্তির মধ্যস্ততায় এমনটি হয়েছে। আমরা কখনও কোন মানুষের প্রাণহানি বা চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলার মতো বিষয় চাই না।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা