প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৬ পিএম
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশে যে পরিমাণ হামের ভ্যাকসিন আছে তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।
টিকার কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কোনো টিকার ঘাটতি নেই। সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। গ্রাম এলাকায় ও আমাদের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত আছে তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত বিনা বাধায় আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো।
তবে আগামী মাসে কিছু ঘাটতি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী মাসে একটা জায়গায় আমাদের কিছু ঘাটতি দেখা দিতে পারে সেটা হলো .০৫ সিরিঞ্জ। সে ঘাটতি পূরণ করতে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছি”।
তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি পাইপলাইনে আছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে আমরা সিরিঞ্জের এ ঘাটতিও পূরণ করতে পারবো। ইউনিসেফের মাধ্যমে আমরা আংশিক সিরিঞ্জ আগামী সাতদিনের মধ্যে নিয়ে নেবো। আর বাকিগুলো মে মাসের মধ্যে তারা আমাদের সরবরাহ করবে”।
দেশে চলমান টিকা কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সহায়তায় দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছি, এবং আগামী ২০ এপ্রিল বৃহৎ পরিসরে শুরু হবে”।
দেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হামের প্রকোপ যে গতিতে বাড়ছিল সেখান থেকে কিছুটা কমেছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করলে এটা আরও কমে যাবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা হাম মোকাবিলায় ফাইট করছি এবং সক্ষমতার সঙ্গে অস্ত্র (ভ্যাকসিন) হাতে নিয়ে আমরা যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আশা করি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে”।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেভাবে হামের রোগী নিয়ে ঢাকায় আসে এজন্য ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর কিছুটা চাপ পড়ে। সে সমস্যা সমাধানে আমরা রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল হামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের কিছু জনবলের ঘাটতি আছে, সেগুলোই ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছি। খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে”।
এ সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও ইপিআইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।