মেডিক্যাল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম
ঢামেকের সামনে বুধবার সকালে ‘ফুটপাতে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ শীর্ষক এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনের দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করে ফুটপাতকে নান্দনিক রূপ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে সেখানে ফুলের টব, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ, বসার আসন ও গ্রাফিতির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
ঢামেকের সামনে বুধবার সকালে ‘ফুটপাতে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ শীর্ষক এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে”।
তিনি আরও বলেন, “ফুটপাতে যত্রতত্র ব্যবসা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। তবে হকারদের প্রতি মানবিক আচরণ বজায় রেখে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে হকার বসার সুযোগ দেওয়া হবে”।
পাশাপাশি ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢামেক জরুরি বিভাগের বিপরীত পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসংলগ্ন প্রায় ১৩৫০ ফুট দেয়ালে রঙিন গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও নানা ফুলের নকশায় সাজানো এসব চিত্র পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এছাড়া ফুটপাতে বসানো হয়েছে শত শত ফুলের টব, গাছ ও বসার আসন।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫০টি ফুলের টব, ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ, ৫০টি বসার আসন এবং আরসিসি বিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের আদলে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের কাজও চলছে।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান জানান, আগে এই ফুটপাত হকারদের দখলে ছিল। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে তা দখলমুক্ত করে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। জনগণের ইতিবাচক সাড়া পেলে পর্যায়ক্রমে নগরের অন্যান্য ব্যস্ত ফুটপাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।