প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৩ পিএম
“অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয়” শীর্ষক ওয়েবিনার। ছবি: ভিডিও থেকে
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভাব এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে নির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন ওয়েবিনার বক্তারা।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রবিবার গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয়” শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তারা।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি”।
ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এছাড়া গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ ২০২১-এর তথ্যমতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার এবং চিনিযুক্ত কোমল পানীয়সহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বছরে প্রায় ২৭ হাজার ৩৮৭ জনের মৃত্যু ঘটে। অথচ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “জনগণের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে নির্ভরতা কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, “অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাটের মতো স্বাস্থ্যহানিকর উপাদানের বিষয়ে ভোক্তাদের সচেতন করতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এ ব্যবস্থা দেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে”।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজবোধ্য উপায়ে সচেতন করতে সরকার ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে”।
দ্রুতই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন”।
ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল।