গর্ভপাতের হার ৩৫ শতাংশ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
গর্ভপাতের হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে—এ অবস্থায় অনিরাপদ গর্ভপাত রোধ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআর) সেবা বিস্তারে জাতীয় কৌশল দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এমআর কিট ও ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে নারীপক্ষ আয়োজিত ‘নীরবতা ভাঙা: সহজলভ্য ও মর্যাদাপূর্ণ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, চিকিৎসক সংগঠন, নাগরিক উদ্যোগ, গণমাধ্যম ও নারীপক্ষের প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারীপক্ষের সভানেত্রী গীতা দাস এবং সঞ্চালনা করেন প্রকল্প পরিচালক নিলুফার পারভীন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, পরিবার পরিকল্পনা শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতায় এমআর কিট, জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ ও সরঞ্জামের সময়মতো সরবরাহ হয়নি। এর ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ও অনিরাপদ গর্ভপাত রোধে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া ওষুধ বিক্রেতাদের এমআর সেবা প্রদানে যুক্ত না করার আহ্বান জানান।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিটের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মনজুর হোসেন জানান, দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হলেও গর্ভপাতের হার ৩৫ শতাংশের বেশি। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থাকা কিশোর–কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও তুলনামূলকভাবে বেশি।
আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সৈয়দ আখতার রুবায়েত বলেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নারী। এত বিপুল চাহিদা পূরণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করা জরুরি।
ডব্লিউএইচও-র প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মো. নুরুল ইসলাম খান বলেন, মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা নির্দেশিকা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ জোবায়দা বেগম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফি আহমেদ, ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ, ওজিএসবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. ফারহানা দেওয়ান, মহিলা বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা বেগম, আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ডা. আহমেদ এহসানুর রহমান এবং মেরি স্টপস বাংলাদেশের প্রতিনিধি মনজুন নাহার।
ফেরদৌসি সুলতানা বেগম উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন, সেবাকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি উপকরণ ও ওষুধের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার পরিবর্তনের পূর্বাভাস তৈরি করে নীতিনির্ধারকদের সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা যাবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নারীপক্ষের সদস্য ও থিম লিডার (নারীর স্বাস্থ্য ও অধিকার) তাসনীম আজিম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এমআর কিট, ওষুধ ও উপকরণ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে অনিরাপদ গর্ভপাতের হার কমানো এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।