মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫২ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
বনভোজনে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হাওরের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে বনভোজনে সেন্ট মার্টিন গিয়েছেন হাসপাতালের ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে মিঠামইন থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যান তারা। সূত্র জানিয়েছে, রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে সেন্ট মার্টিন থেকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন তারা।
রবিবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন নারী-পুরুষ। তাদের সামনে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কেন্দ্রের দুই কক্ষেই তালা ঝুলছে। জানা গেল, সেখানে সবাই এসেছেন এই পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে। কিন্তু কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চিকিৎসকরা পিকনিকে গিয়েছেন। একই সময় দ্বিতীয় তলায় বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষই ফাঁকা। কক্ষের সামনে রোগীদের সিরিয়ালের টিকিট অথবা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী। চিকিৎসক কক্ষে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তারা। রোগীদের চোখেমুখে ক্লান্তি আর বিরক্তির ছাপ। এভাবে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে পিকনিক করার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভও জানান অনেকে।
সেবা নিতে আসা আলিয়া বেগম নামে এক রোগী জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে তার ঠান্ডা-জ্বর। সঙ্গে কাশিও। বৃহস্পতিবার কফ পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেন। রবিবার তার পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কিন্তু এসে দেখেন কক্ষ ফাঁকা।
সেবা নিতে আসা বিল্লাল জানান, আমার তিনদিন ধরে শ্বাসকষ্ট। এজন্যই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। কিন্তু এসে শুনি চিকিৎসকরা সবাই পিকনিকে আছেন।
এ সময় সেবা কাযর্ক্রম বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হন রোগীরা। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও সেবা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যান। হাসপাতালের চিকিৎসা কাযর্ক্রম বন্ধ রেখে এভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিকনিক করা নিয়ে ক্ষোভ জানান অপেক্ষমান রোগীরা।
এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আল শাফির ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।
কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আমি বিষয়টি দেখছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।