প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৭:২৩ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ছবি: বিবিসি বাংলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার মানুষের চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও জিজ্ঞাসু মনকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনিচ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেছেন, তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়ার অভ্যাস মানুষকে ধীরে ধীরে প্রশ্ন করা ও যাচাই করার সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
গতকাল
সোমবার বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রাচীন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল অবজারভেটরি
গ্রিনিচের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচের পরিচালক প্যাডি রজার্স বলেন,
গবেষণার দীর্ঘ ইতিহাস মানবজ্ঞান ও কৌতূহলের শক্তিকে সামনে এনেছে। রজার্সের এই মন্তব্য
এসেছে রয়্যাল অবজারভেটরির চলমান রূপান্তর প্রকল্প ‘ফার্স্ট লাইট’-এর প্রেক্ষাপটে। তিনি
বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য গত সাড়ে ৩০০ বছরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধিৎসা ও আবেগকে
নতুনভাবে তুলে ধরা। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক
আবিষ্কার সম্ভব হতো না। তবে মানুষ নিজে প্রশ্ন না করলে, উত্তর খুঁজে না বের করলে এবং
অপ্রত্যাশিত তথ্যের মুখোমুখি না হলে এসব আবিষ্কারও সম্ভব হতো না। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
অনেক সময় এমন তথ্য সামনে আনে না।
রজার্সের
মতে, প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আকাশ সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন,
যা পরবর্তী সময়ে এমন সব কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যার কথা তারা নিজেরাও ভাবেননি। তাদের কাজের
মধ্যে এমন অনেক বিষয় ছিল, যা কোনো যন্ত্র করত না। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারও বাড়ছে। ২০২৪ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্যার ডেমিস হাসাবিস
জীবনের গঠন উপাদান প্রোটিন নিয়ে ‘বিপ্লবাত্মক’ কাজের জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার ভাগ
করে নেন। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী হিসেবে
তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রায় সব পরিচিত প্রোটিনের গঠন পূর্বাভাস দেন
এবং ‘আলফাফোল্ড টু’ নামের একটি সরঞ্জাম তৈরি করেন। ইতোমধ্যেই গুগল অনুসন্ধানের ফলাফলে
সংক্ষিপ্ত তথ্য বা লিংকের তালিকার পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সারসংক্ষেপ
দেখানো শুরু করেছে।