দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্পনা ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ইউএফও বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: রয়টার্স
দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্পনা ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ইউএফও বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
পেন্টাগন সম্প্রতি শত শত গোপন নথি, ভিডিও ও সাক্ষ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে রহস্যময় আলো, দ্রুতগতির গোলক এবং আকাশে অস্বাভাবিকভাবে ঘুরতে থাকা বস্তুর বর্ণনা উঠে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রকাশনাকে ‘জনগণের জানার অধিকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।
গত শুক্রবার প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কূটনৈতিক বার্তা, এফবিআইয়ের সাক্ষাৎকার এবং নাসার মহাকাশ মিশনের ডিব্রিফিং। নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে কাজাখস্তানের আকাশে একটি উজ্জ্বল বস্তু দ্রুতগতিতে ‘৯০ ডিগ্রি বাঁক’ নিচ্ছিল। আবার ২০২৩ সালে এজিয়ান সাগরের ওপর একটি রহস্যময় বস্তু একই ধরনের আচরণ করে।
সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি অ্যাপোলো-১১ মিশনের ডিব্রিফিং। সেখানে নভোচারী বাজ অলড্রিন চাঁদের কাছে একটি খুব উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখার কথা বলেন। পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, জাপান ও উত্তর আমেরিকার আকাশে ধারণ করা ২০টির বেশি দৃশ্য। কোথাও দ্রুত ছুটে চলা সাদা বিন্দু, কোথাও ফুটবলের মতো আকৃতির বস্তু দেখা গেছে। তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, এসব নথি প্রকাশের অর্থ এই নয় যে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এখন পর্যন্ত এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।
পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা শন কার্কপ্যাট্রিক সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্লেষণ ছাড়া এসব ভিডিও প্রকাশ আরও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বাড়াতে পারে। তবুও প্রশ্ন রয়ে গেছেÑ এসব কি প্রযুক্তিগত বিভ্রম, নাকি সত্যিই মানবসভ্যতার বাইরের কোনো রহস্যের ইঙ্গিত?