প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ০৯:০০ এএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৬ ১১:৩৭ এএম
একটি ভার্চুয়াল আদালত শুনানিতে হাজির হন মিচেল গ্যাফ। ছবি: সিএনএন
আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের চার দশক পুরনো দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এটাই ছিল মামলার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।
আন্ডারকভার গোয়েন্দাদের অভিনব কৌশলে সংগৃহীত সেই চুইংগাম থেকেই পাওয়া ডিএনএ মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় সিরিয়াল ধর্ষক ও খুনি মিচেল গ্যাফকে।
দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই মামলার সমাধান শুধু তদন্তেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেনি, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকেও দিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এভারেট শহরের একটি বাড়িতে পৌঁছেন তিনজন আন্ডারকভার গোয়েন্দা। তারা নিজেদের একটি চুইংগাম কোম্পানির প্রচারকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।
বাড়ির মালিক মিচেল গ্যাফ তাদের স্বাগত জানান এবং তাদের দেওয়া বিভিন্ন স্বাদের চুইংগাম খেতে সম্মত হন।
একপর্যায়ে নতুন স্বাদ নেওয়ার সময় পুরনো চুইংগামটি একটি ছোট পাত্রে ফেলেন তিনি। আর সেখান থেকেই তদন্তকারীরা সংগ্রহ করেন তার লালাযুক্ত ডিএনএ নমুনা।
পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, সেই ডিএনএ ১৯৮৪ সালে নিহত জুডি উইভারের শরীর ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে মিলে গেছে।
আদালতে বুধবার তার সাজা ঘোষণার কথা, যেখানে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
৬৮ বছর বয়সী গ্যাফ পরে শুধু জুডি উইভার হত্যাই নয়, ১৯৮০ সালে সুসান ভেসি নামের আরেক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও স্বীকার করেন।
দুই সন্তানসহ সংসার করতেন ২১ বছর বয়সী সুসান ভেসি। গ্যাফ তার বাড়ির খোলা দরজা পেয়ে ভেতরে ঢুকে তাকে বেঁধে, মারধর করে, ধর্ষণের পর হত্যা করে।
চার বছর পর একইভাবে আক্রমণের শিকার হন ৪২ বছর বয়সী জুডি উইভার। হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে তার শোবার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় গ্যাফ।
১৯৭৯ সালে তিনি জ্যাকালিন ও’ব্রায়েন নামের এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। ওই নারী আজও ট্রমা বহন করছেন।