প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০০ এএম
পর্বতারোহীরা বেস ক্যাম্পে আবহাওয়ার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন, পথ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তারা চূড়ায় আরোহণ করতে পারবেননা। ছবি: বিবিসি
বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে চলতি মৌসুমের আরোহণ কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। নেপালের দিকের প্রধান রুটে বিশাল এক বরফখণ্ড বা ‘সেরাক’ সৃষ্টি হওয়ায় পুরো অভিযান অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে জানিয়েছে দি ইনডিপেনডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩০ মিটার উচ্চতার এই বরফখণ্ডটি ক্যাম্প-১ থেকে প্রায় ৬০০ মিটার নিচে অবস্থান করছে, যা আরোহীদের মূল পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে এবারের এভারেস্ট অভিযান শুরুতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন অভিজ্ঞ শেরপারা, যারা পর্বতারোহণের রুট তৈরি ও দড়ি-মই স্থাপনের দায়িত্বে থাকেন। স্থানীয়ভাবে ‘আইসফল ডাক্তার’ নামে পরিচিত এই দলটি কয়েক দিন ধরে বিকল্প পথ খুঁজলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পায়নি।
সাগরমাথা পলুশন কন্ট্রোল কমিটির বেস ক্যাম্প সমন্বয়কারী ছেরিং তেনজিং শেরপা জানান, এই বিশাল বরফখণ্ডটি গলানো বা ভাঙার কোনো কার্যকর প্রযুক্তিগত উপায় এখনও তৈরি হয়নি। ফলে প্রাকৃতিকভাবে এটি ভেঙে পড়া বা গলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সাধারণত এপ্রিলের মধ্যে ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত রুট প্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু এবার তিন সপ্তাহ আগে কাজ শুরু হলেও শেরপারা ক্যাম্প-১-এর নিচেই আটকে আছেন। এতে পুরো অভিযানসূচি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কারণ এভারেস্টে নিরাপদ আরোহণের জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া সাধারণত মে মাসের শেষ পর্যন্ত সীমিত থাকে।
নেপালের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরাসরি ক্যাম্প-২-এ সরঞ্জাম ও কর্মী পৌঁছে দিয়ে ওপরের রুট প্রস্তুত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও আলোকচিত্রী পূর্ণিমা শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন যে, রুট খোলায় দেরি হলে অতিরিক্ত ভিড়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সীমিত সময়ের মধ্যে বেশি আরোহী শৃঙ্গে ওঠার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে নেপাল সরকার নেপাল ডিপার্টমেন্ট অব ট্যুরিজম মোট ৩৬৭টি আরোহণ অনুমতি দিয়েছে। অতীতে অতিরিক্ত ভিড় ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সমালোচনার মুখে পড়ায় এবার পারমিট ফি বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বরফখণ্ডজনিত এই অপ্রত্যাশিত বাধা এবারের এভারেস্ট অভিযানে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা পুরো পর্বতারোহণ মৌসুমকেই প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।