এনডিটিভি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৪ পিএম
অফিসে টানা ৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে বিরল প্রতিবাদ চীনা নারী কর্মীর। ছবি: এনডিটিভি
কাজের তুলনায় বেতন কম, তাই প্রতিবাদ হিসেবে অভিনব এক পথ বেছে নিয়েছেন চীনের এক নারী। অফিসে কাজের ফাঁকে টানা ৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটালেন তিনি। তার সাফ কথা— “যেমন বেতন দেবেন, ঠিক তেমন কাজই পাবেন”। চীনের সাংকিউ শহরের এই ঘটনাটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংকিউ শহরের ওই নারী মনে করেন তার কোম্পানি তাকে যোগ্য পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে তিনি তার উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবাদ হিসেবে তিনি অফিস চলাকালীন নিজের ডেস্কেই টানা ৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান। পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইউ গেট হোয়াট ইউ পে ফর” অর্থাৎ আপনারা যা খরচ করবেন, সে অনুযায়ীই সেবা পাবেন।
তবে এই ঘটনা নিয়ে জল ঘোলা হয় তখন, যখন তার বস তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধরে ফেলেন। বসের কড়া বকুনি এবং ভবিষ্যতে এমনটা করলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকির মুখে ওই নারী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে কাঁদতে কাঁদতে নিজের কাজের সাফাই দিতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে এবং কম বেতনের বিষয়টি তুলে ধরতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি চাকরি ছাড়তে ইচ্ছুক নন, বরং বেতন বৈষম্যের দিকে কর্তৃপক্ষের নজর কাড়তে চেয়েছিলেন।
ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে অন্য একটি তথ্যে। জানা গেছে, ঘুম থেকে ওঠার পর ওই নারী তার বসের ডেস্ক থেকে একটি চকলেট খেয়ে ফেলেন। দুর্ভাগ্যবশত, তার বস ‘গ্লুকোজ ইনটলারেন্স’ বা রক্তে শর্করার সমস্যায় ভুগছিলেন। সময়মতো ওই চকলেটটি বা মিষ্টি জাতীয় খাবারটি না পেয়ে তিনি প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ক্ষুব্ধ বস বলেন, “সে কি আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল? সে আমার জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে”।
চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে অধিকাংশ মানুষই ওই নারীর অপেশাদার আচরণের সমালোচনা করেছেন। অনেকেই বলছেন, বেতন নিয়ে অসন্তোষ থাকতেই পারে, কিন্তু কাজের সময় ঘুমানো কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্যের খাবার খাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “ভাবতেও পারিনি যে কোনোদিন আমি বসের পক্ষ নিয়ে কথা বলব”। অন্য একজন বিদ্রুপ করে লিখেছেন, “পরের বার ঘুমানোর আগে অ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন, যাতে অফিস ছুটির সময় অন্তত ঘুম ভাঙে”।
শ্রমিক অধিকার নিয়ে চীনে নানা বিতর্ক থাকলেও, এই ঘটনায় ওই নারীর অদ্ভুত ‘প্রতিবাদ’ সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।