মো. নিজামুল হক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬ ২০:১৫ পিএম
খাদ্যাভ্যাস বদলে মরণব্যাধি থেকেও মুক্তি মিলবে, বলছেন চিকিৎসকরা। ছবি: ভেক্টইজি
তরুণ বা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার বাড়ছে, যা এখন একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির লোম্বার্ডি কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের ড. জন মার্শাল বলেন, আগে এটি মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ২০, ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও বেশি দেখা যাচ্ছে।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে, ৫০ বছরের কম বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে ক্যান্সারে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এখন এই ক্যান্সার। অভিনেতা জেমস ভ্যান ডার বিক এবং চ্যাডউইক বোসম্যানের অল্প বয়সে মৃত্যু এই ঝুঁকিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ৫৫ হাজারের বেশি মারা যান। এটি ফুসফুস ক্যান্সারের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী ক্যান্সার। যদিও মোট জনসংখ্যার মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে, তবে তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের হার বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিনিং পরীক্ষার কারণে এখন অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার শুরুতেই ধরা পড়ছে। এতে চিকিৎসা সহজ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বেশি করে ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য খাওয়ার পরামর্শ দেন এবং লাল মাংস কম খেতে বলেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করলে ক্যান্সার থেকে বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে।
এই রোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ রয়েছে। যেমন মলের সাথে রক্ত যাওয়া, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন (ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য), মল সরু হয়ে যাওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া এবং পেটে ব্যথা।
চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ৪৫ বছর বয়স থেকে স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত। বর্তমানে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য নতুন ধরনের রক্ত পরীক্ষাও চালু হয়েছে।