প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১১:১৯ এএম
বলিভিয়ার একটি জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের জীবাশ্মভূত পদচিহ্ন নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সৃষ্টির আদিম প্রহরে, যখন মানুষের পদচারণা এই পৃথিবীতে স্পর্শ করেনি, তখন প্রকৃতির বিশাল মঞ্চজুড়ে রাজত্ব করত ডাইনোসর নামক এক আশ্চর্য প্রাণিকুল। গবেষকদের মতে সময়ের স্রোতে বিলীন হলেও তাদের পদচিহ্ন আজও রয়ে গেছে মাটির গভীরে, জীবাশ্মের নিঃশব্দ ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছে সেই হারানো যুগের গল্প। সম্প্রতি বলিভিয়ার একটি জাতীয় উদ্যানে বিজ্ঞানীরা রেকর্ডসংখ্যক জীবাশ্মভূত ডাইনোসরের পদচিহ্ন গণনা করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এলাকাটি একসময় একটি প্রাচীন উপকূল ছিল এবং সাঁতারের চিহ্নও পরিলক্ষিত হয়েছে। বেশিরভাগ পদচিহ্নই থেরাপডদের, যারা ছিল দুই পায়ে হাঁটা এবং তিনটি আঙুলযুক্ত ডাইনোসর। গবেষকরা মোট ১৬,৬০০টি পদচিহ্ন এবং ১,৩৭৮টি সাঁতারের চিহ্ন গণনা করেছেন, যেগুলো প্রধানত মেসোজোয়িক যুগে (প্রায় ২৫ কোটি থেকে ৬.৬ কোটি বছর আগে) পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। আবিষ্কৃত সংরক্ষিত পদচিহ্নগুলো এই কারণে অনন্য যে, এগুলো ডাইনোসরের হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা এবং লেজ ঘষে চলার মতো বিভিন্ন আচরণ প্রদর্শন করে।
এই গবেষণার অন্যতম গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্টার্ন অ্যাডভেন্টিস্ট ইউনিভার্সিটির ড. জেরেমি ম্যাকলার্টি বলেন, এই পদচিহ্নগুলো থেকে অনেক কিছু শেখার আছে : পদচিহ্নের সারিগুলো একটি এলাকাজুড়ে চলাচলের সময় ডাইনোসররা কী করছিল, তার একটি ‘বাস্তব-সময়ের’ চিত্র তুলে ধরে।
‘তারা কি হাঁটছিল নাকি দৌড়াচ্ছিল? এলোমেলোভাবে নাকি নির্দিষ্ট দিকে চলছিল? শুধুমাত্র হাড় থেকে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলেও— গবেষকরা বলছেন, ডাইনোসর ছিল কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করা এক ধরনের সরীসৃপ প্রজাতির বিশাল প্রাণী। আকারে খুব ছোট (মুরগির মতো) থেকে শুরু করে বিশাল দৈত্যাকৃতির পর্যন্ত ছিল। কেউ দুই পায়ে, কেউ চার পায়ে চলত; কেউ ছিল মাংসাশী, আবার কেউ তৃণভোজী; অনেকের শরীরে আঁশ ছিল, আবার কিছু ডাইনোসরের পালকও ছিল (যা পাখির সঙ্গে সম্পর্ক দেখায়)।
ধারণা করা হয় প্রায় ৬.৬ কোটি বছর আগে একটি বিশাল উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আঘাত হানার ফলে পরিবেশ হঠাৎ বদলে যায়, যার কারণে তারা টিকে থাকতে পারেনি। মজার তথ্য হলো, আজকের পাখিরা আসলে ডাইনোসরেরই বংশধর বলে গবেষকরা দাবি করেছেন।