প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২:১৬ পিএম
ব্যাকটেরিয়া নামক ক্ষুদ্রতম অণুজীবই ছিল জীবনের প্রারম্ভিক সূচনা। প্রাচীন ব্যাকটেরিয়া, যারা লাখ লাখ বছর ধরে গুহার ভেতরে আটকে আছে। গুহার ভেতর তারা একে অপরকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। টিকে থাকার জন্য তারা এমন কৌশল তৈরি করেছে, যা তাদের প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী করে তুলেছে। অর্থাৎ কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এদেরকে ধ্বংস করতে পারে না। ব্যাকটেরিয়া যে কৌশল ব্যবহার করে নিজেকে রক্ষা করছেÑ বিজ্ঞানীরা তাদের কৌশল ব্যবহার করেই নতুন ওষুধ তৈরির আশা করছেন, যা ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়ান মরুভূমির নিচে প্রায় ৪৮৯ মিটার গভীরে রয়েছে লেচুগুইলা গুহা, যা প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এই বিশাল গুহায় সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। ফলে খাদ্যও খুব কম। এই গুহায় ব্যাকটেরিয়াগুলো লাখ লাখ বছর ধরে মানুষের সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন। তবুও সেখানে অসাধারণ বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ রয়েছে। কিছু ব্যাকটেরিয়া পাথর ও বাতাস থেকে শক্তি নেয়, আবার কিছু অন্য ব্যাকটেরিয়াকে শিকার করে খায়।
গবেষকরা দেখেছেন, এই ব্যাকটেরিয়াগুলো প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। আশ্চর্যের বিষয়, তারা কখনও মানুষের তৈরি ওষুধের সংস্পর্শে আসেনি। এর অর্থ, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নতুন কিছু নয়Ñ এটি বহু প্রাচীন একটি বৈশিষ্ট্য।
বর্তমানে ‘সুপারবাগ’ বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বিশ্বজুড়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালে প্রায় ১১.৪ লাখ মানুষের মৃত্যু সরাসরি এ কারণে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গুহার ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে এমন কিছু জিন রয়েছে, যা আধুনিক রোগজীবাণুর মধ্যেও পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই প্রকৃতিতে ছিল।
বর্তমানে গবেষকরা এই ব্যাকটেরিয়ার গোপন কৌশল ব্যবহার করে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি এবং ভবিষ্যতের প্রতিরোধ মোকাবিলার পথ খুঁজছেন।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গুহার কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য ব্যাকটেরিয়াগুলোর মধ্যে এক ধরনের ‘যুদ্ধ’ চলে, যা তাদের আরও শক্তিশালী করে তোলে।