প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩২ এএম
ইউরোপিয়ান রবিন। ছবি: বার্ডগাইড
মানুষ সৃষ্ট শব্দদূষণ বিশ্বজুড়ে পাখিদের আচরণ ও প্রজননক্ষমতার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। সঙ্গী আকর্ষণের গান, খাবার সংগ্রহ এবং শিকারির হাত থেকে বাঁচার সক্ষমতাÑ সবক্ষেত্রেই বিঘ্ন ঘটছে।
বুধবার ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি বি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, মানুষের তৈরি শব্দদূষণের প্রভাব ছয়টি মহাদেশে বিস্তৃত। প্রায় চার দশক ধরে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষক দলটি ১৯৯০ সাল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য ১৬০টি পাখি প্রজাতির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করে। বৃহৎ পরিসরের এই পর্যালোচনায় দেখা যায়, শহুরে কোলাহল ও যান্ত্রিক শব্দ পাখিদের পারস্পরিক যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে তাদের খাবার খোঁজা, আক্রমণ প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি আবাসস্থল নির্বাচন ও প্রজননক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেন নাতালি ম্যাডেন, যিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় এ গবেষণা পরিচালনা করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘পাখিরা মিলনের জন্য সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে গান গায়, শিকারির বিষয়ে সতর্ক করতে ডাক দেয় এবং ছানারা মা-বাবাকে ক্ষুধার সংকেত দেয়। কিন্তু চারপাশে যদি অতিরিক্ত শোরগোল থাকে, তাহলে তারা কি নিজেদের প্রজাতির সংকেত ঠিকভাবে শুনতে পারে?’
গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দদূষণের কারণে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ পাখিদের প্রেমের গান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ছানা ও মা-বাবার মধ্যে যোগাযোগের শব্দ চাপা পড়ে যাচ্ছে, যা প্রজনন ও বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ি, শিল্পকারখানা ও নগরজীবনের ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণ পাখিদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।