প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৬৫০ বছর আগের ঘাস ও ডালপালা দিয়ে তৈরি শকুনের বাসায় একজোড়া স্যান্ডেল অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে স্পেনের পাহাড়ি এক গুহায়। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ স্পেনের কোনো বাসিন্দা একসময় ওই স্যান্ডেল খুলে রেখেছিলেন বা হারিয়ে ফেলেছিলেন। সাধারণত সময়ের সঙ্গে এমন জিনিস প্রকৃতির মধ্যে মিশে যায়, কিন্তু এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম।
এক বিয়ার্ডেড (দাড়িওয়ালা) শকুন স্যান্ডেলটি তুলে নিয়ে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়েছিল। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শীতল ও শুষ্ক গুহায় সেটি শত শত বছর ধরে অক্ষতভাবে সংরক্ষিত ছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই বাসা ব্যবহার করলেও শকুনেরা সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছিল স্যান্ডেলটি।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে একদল গবেষক স্পেনের বিভিন্ন পাহাড়ি গুহায় দড়ি বেয়ে নেমে বিয়ার্ডেড শকুনের এক ডজন বাসা পরীক্ষা করেন। সেখানে তারা ওই প্রাচীন স্যান্ডেলসহ ২০০-এর বেশি মানবসৃষ্ট বস্তু আবিষ্কার করেন, যেগুলোর কিছু মধ্যযুগীয় সময়ের। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইকোলজি’ সাময়িকীতে।
গবেষকদের মতে, বিয়ার্ডেড শকুন একমাত্র শকুন প্রজাতি, যারা হাড় খেতে সক্ষম এবং মৃত প্রাণীর কঙ্কাল ভেঙে খায়। এই প্রজাতির পাখিরা লাল-কমলা কাদায় গোসল করে নিজেদের পালক রাঙিয়ে নেয়; যা তাদের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সাধারণত তারা খাড়া পাহাড়ের গুহায় বাসা তৈরি করে নিরাপদে বংশবিস্তার করে।
গুহার অনন্য জলবায়ু (মাইক্রোক্লাইমেট) এসব পুরনো উপকরণ সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবার ব্যবহারের সময় শকুনেরা বাসায় নতুন ডালপালা যোগ করে, ভেড়ার পশম দিয়ে ডিম উষ্ণ রাখার আস্তরণ বানায় এবং ছানাদের জন্য ছাগলের মৃতদেহের অংশ এনে রাখে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও স্পেনের পিরেনিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোলজির বাস্তুবিদ অ্যান্টনি মারগালিডা বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এসব বস্তু অক্ষতভাবে সংরক্ষিত থেকেছে।’ তিনি গুহাগুলোর তুলনা করেছেন ‘একটি প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের’ সঙ্গে।
গবেষক দলটি পুরনো বাসাগুলো স্তর ধরে খনন করে অসংখ্য জীববৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করে। ১২টি বাসা থেকে পাওয়া গেছে ৮৬টি প্রাণীর খুর, ২ হাজার ১০০টিরও বেশি হাড় এবং ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরের ডজনখানেক ডিমের খোসা, যা প্রমাণ করে শকুনদের দীর্ঘকালীন বাসস্থানের ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অনন্য সংরক্ষণাগার।