প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:০২ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:২২ পিএম
একটি ভারতীয় পোস্ট অফিস। ছবি : সংগৃহীত
প্রায়শই দোকানে বা লেনদেনের স্থানগুলোতে দেখা যায় টাকা ভাংতি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ভোক্তাকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়। বাকি টাকা হয় ফেরত দেওয়া হয় না নয় চকলেট ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভোক্তার পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ব্যাপক উদাসিনতা কাজ করে। তবে এবার এমনটা করে বিপাকে পড়েছে ভারতীয় এক পোস্ট অফিস। ৫০ পয়সা ফেরত না দেওয়ায় দিতে হয়েছে ১৫ হাজার রুপি জরিমানা।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের চেন্নাই রাজ্যে। ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের পঝিচালুর পোস্ট অফিসে যান এ মানাশা নামের এক ব্যক্তি। ভারতীয় পোস্ট অফিসের ওই ব্রাঞ্চ থেকে রেজিস্টার্ড চিঠি পাঠানোর জন্য গিয়েছিলেন তিনি। চার্জ হিসাবে ৩০ টাকা দিতে হয়েছিল তাকে। যদিও পোস্ট অফিসের তরফে দেওয়া রসিদে ওই পরিষেবার জন্য চার্জ ধার্য করা ছিল ২৯ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু পোস্ট অফিসের তরফে জানানো হয় ৫০ পয়সা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তখন তিনি ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২৯ টাকা ৫০ পয়সা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যে ইউপিআই-এর মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে যান্ত্রিক সমস্যা হচ্ছে বলে পোস্ট অফিসের তরফ থেকে তাকে জানানো হয়। আর তাই তার কাছ থেকে ৩০ রুপি নেওয়া হয়।
এর পরই বিষয়টি নিয়ে কাঞ্চিপুরমের ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার ডিসপিউট রিড্রেসাল কমিশনের দ্বারস্থ হন মানাশা। সেখানে ৫০ পয়সা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ জানান তিনি। মানাশার অভিযোগ ছিল, পোস্ট অফিসে সারা দিনে লক্ষাধিক টাকার লেনদেন হয়। এভাবে টাকা ফেরত না দেওয়া বেআইনি। তা হিসাব বহির্ভূত। এতে সরকারের রাজস্বও ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়টি দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে উপভোক্তার সমস্যা নিষ্পত্তি কমিশন জানায়, পোস্ট অফিস অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
কমিশন পোস্ট অফিসকে ১৫ হাজার রুপি জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মানাশাকে মামলার খরচের জন্য ৫ হাজার রুপি ও মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ায় জন্য ১০ হাজার রুপি দিবে পোস্ট অফিসটি।
কমিশন এই অভ্যাসকে ‘আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। খুচরোর সমস্যা মেটাতে কম্পিউটার সিস্টেমে বদল আনার পরামর্শও ডাক বিভাগকে দিয়েছে কমিশন।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, এই সময়