প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৪ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৪ ১৫:২৫ পিএম
সোমবার (১৭ জুন) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হলে জিংশান ও জুয়েইং-এর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বে প্রতিটি মা-বাবাই চান তার সন্তান সুখে শান্তিতে থাকুক। তার জন্য নিজের সাধ্যানুসারে কখনো বা সাধ্যের বাইরে গিয়ে তারা সন্তাদের ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করেন। এবার একটু ভিন্নভাবে সন্তানের ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করলেন সম্প্রতি গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত এক মালয়েশিয়ান দম্পতির মা-বাবা। নিহত সন্তানদের বিয়ে করার ইচ্ছা পূরণের জন্য তারা ‘ভূতের বিয়ের’ আয়োজন করেছেন।
৩১ বছর বয়সি ইয়াং জিংশান ও ৩২ বছর বয়সি লি জুয়েইং ৩ বছর যাবৎ একসঙ্গে ছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে করতে চলেছিলেন। কিন্তু এর আগেই তারা একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।
জিংশান ২ জুন ব্যাংককে তার জন্মদিন পালন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। একইসঙ্গে সেখানে ভ্রমণের সময় জুয়েইং-কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু তা আর করা হলো না জিংশানের। এর আগেই ঘটে গেল অঘটন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ মে মালয়েশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় পেরাকের একটি রাস্তায় তাদের গাড়ি উল্টে যায়। তারা দুইজনই এ দুর্ঘটনায় মারা যান।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর, তাদের পরিবারেরা তাদের সম্মানে একটি ‘ভূতের বিয়ের’ আয়োজন করতে ও তাদেরকে পরকালে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ করতে একত্রিত হয়। ‘ভূতের বিয়ে’ বলতে সাধারণত এমন একটি অনুষ্ঠানকে বোঝায় যা দুইটি অবিবাহিত মৃত আত্মাকে একত্রিত করে।
সোমবার (১৭ জুন) একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হলে জিংশান ও জুয়েইং-এর বিয়ের আয়োজন করা হয়। তাদের পরিবার তাদের জন্য একটি বিয়ের ছবিও তৈরি করে। জিংশানের পরিবার তাদের শোকবার্তায় জুয়েইং-কে তাদের পূত্রবধূ হিসেবে তালিকাভূক্ত করে।
ঐতিহ্যবাহী চীনা বিশ্বাস অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি তার ইচ্ছা পূরণ না করেই মারা যায় তাহলে তারা পরবর্তী জীবনে শান্তি পায় না। তাদের আত্মা ফিরে এসে জীবিতদের তাড়া করতে পারে।
চীনের লোককাহিনী বিশেষজ্ঞ হুয়াং জিংচুন দ্য পেপারকে বলেছেন, ‘চীনা সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও জাপানের মতো পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে ভূতের বিয়ের সংস্কৃতি বিদ্যমান।’
সূত্র : এনডিটিভি