ভুবন সেন, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:২৬ পিএম
জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ
নারীশিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটের জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এটি জেলার নারীশিক্ষা বিষয়ক প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটি। ১৯৮৩ সালে গোয়ালডিহি গ্রামের জমির উদ্দিন শাহ ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রহমান শাহসহ এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের জমিতে স্কুলটি গড়ে ওঠে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (মরহুম) আকবর আলী শাহর তত্ত্ববধানে।
১৯৮৩ সালে স্কুল শাখার কার্যক্রম শুরু হয় টিনশেড ভবনে। ১৯৯৪ সালে শুরু হয় কলেজ শাখার কার্যক্রম। বিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীসংখ্যা ৬০৪। আছেন স্কুল ও কলেজ শাখার ২৭ জন শিক্ষক। আছেন ১০ জন কর্মচারী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাকেরহাট বাজারে আংগারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা সুবিশাল ক্যাম্পাস। মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; এরপর জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকলেও অনুপযোগী দোতলা ও টিনশেডেই ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। সেই সঙ্গে নিয়মিত পিটি-প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গার্লস গাইড কার্যক্রম, বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিসহ কো-কারিকুলাম কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এইচএসসির ফলাফলে চলতি বছরসহ বেশ কয়েকবার উপজেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ২০২৩ সালে ১৩০ জন এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাসের হার ৮৯.২৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন। ২০২২ সালে ১৩৬ ফলপ্রার্থীর মধ্যে পাসের হার ৭৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন নয়জন। ২০২১ সালে ১৬২ ফলপ্রার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৪.৪৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন আটজন। অন্যদিকে এসএসসিতেও এ প্রতিষ্ঠানের রয়েছে প্রশংসনীয় সাফল্য ও সুনাম।
এ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও এইচএসসি অধ্যয়ন শেষে অনেকেই দেশসেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিংসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরি ও ব্যক্তি জীবনে সুনাম কুড়াচ্ছেন। এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ও এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. মুনতাহেনা নুজহাত বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী সবাই আন্তরিক। সবার সদিচ্ছার ফলে এ প্রতিষ্ঠানে আনন্দমুখর পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহরিয়ার জামান শাহ নিপুণ বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীসহ সবার সহযোগিতায় জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ আজ এ পর্যায়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে শিক্ষার মান আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে; এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সুদৃষ্টি প্রয়োজন।’
ইউএনও তাজ উদ্দিন বলেন, ‘নারীশিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকার পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষাকার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা পাশে থাকবে।’