× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজীবের যুদ্ধে যাওয়া

লেখা ও আঁকা : স্বপ্নিল কুমার ভদ্র

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৫৭ পিএম

আঁকা : স্বপ্নিল কুমার ভদ্র

আঁকা : স্বপ্নিল কুমার ভদ্র

রাজীবের বাড়ি কুসুমডাঙ্গা গ্রামে। এখানকার মানুষ একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করে আসছে। একদিন দুপুরে রাজীব পড়তে বসেছে, এমন সময় মা এসে দোকান থেকে ২ সের পেঁয়াজ আনতে বলেন। রাজীব দোকানের রেডিওতে বিবিসির খবরে শুনল, গতকাল রাত থেকে এদেশে মিলিটারিরা গণহত্যা শুরু করেছে। অনেকে ভারতে যাচ্ছে, রাজীব ভয় পেল। বাড়ি ফিরে এসে কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ রইল। 

মধ্যরাতে সবাই যখন ঘুমে, হঠাৎ গুলির ট্যাঁ ট্যাঁ ট্যাঁ শব্দ, সবাই হুড়মুড় করে উঠে বসল। হঠাৎ দরজায় কারা যেন কড়া নাড়ল, মা রাজীবকে পুরোনো সিন্দুকটার পেছনে লুকাতে বললেন। বাবা দরজা খুলতে ভয় পাচ্ছেন, কী করবেন কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর দরজায় জোরে ধাক্কা পড়ল। দরজা খুলে দিতেই এক পাকিস্তানি সৈন্য রাজীবের বাবাকে গুলি করে, রাজীবের মা চিৎকার করে উঠলেন, নিষ্ঠুর আরেক পাক আর্মি রাজীবের মাকেও গুলি করে হত্যা করল। চোখের সামনে মা-বাবাকে হারিয়ে রাজীব কী করবে কিছুই বুঝতে পারল না। 

রাজীব একেবারে চুপচাপ হয়ে যায়, কারও সঙ্গে কোনো কথা বলে না। রাজীবের খুব কান্না পায়, কিন্তু কান্না করলে চলবে না। পরদিন ভোরে সে দেখল ওর স্কুলের বড় ভাই আসিফ ও গ্রামের কয়েকজন মিলে কোথায় যেন যাচ্ছে। তাদের একজন বলছে, সন্ধ্যার আগে মেঘালয়ে পৌঁছতে হবে। জসিম স্যারও ওখানে আছেন, তিনি আমাদের ট্রেনিং দেবেন বলেছেন। 

রাজীব দৌড়ে তাদের কাছে গিয়ে বলল,‘আমিও যুদ্ধ করব, আমাকেও তোমাদের সাথে নাও।’ রাজীবের কথা শুনে আসিফ বলল, ‘তুই তো ছোট।’ রাজীব আসলেই অনেক ছোট। তখন সে ক্লাস সিক্সের ছাত্র। রাজীব বলল, ‘আমার বাবা-মাকে ওরা মেরে ফেলছে, একা একা ভালো লাগে না, আমাকে সঙ্গে নাও।’ আসিফ তখন রাজীবকে বলল, ‘চল তাহলে।’ 

পৌঁছে সবাই ট্রেনিং নিতে লাগল। একদিন তারা খবর পেল কুসুমডাঙ্গার পাশেই ইছামতী নদীর ওপারে হানাদারেরা ঘাঁটি গেড়েছে। তারা নতুন অপারেশনের পরিকল্পনা করল, সিদ্ধান্ত হলো গভীর রাতে রাজীব চুপিচুপি পাকিস্তানি ক্যাম্পের পাশে মাইন পুঁতে দিয়ে আসবে। পরিকল্পনা মতো তাই হলো। এক পাকিস্তানি সৈন্য ভোরে হাওয়া খেতে বের হয়েছিল, তার পায়ের চাপে প্রচণ্ড শব্দে মাইনটা ফেটে যায়। তখনই আগুন ধরে গেল ক্যাম্পে। হতাহত হলো অনেক পাকিস্তানি সৈন্য, আসিফের মুক্তিবাহিনীর দল আনন্দে চিৎকার দিল ‘জয় বাংলা।’ রাজীবকে ঘিরে সবাই আনন্দ প্রকাশ করল।

পঞ্চম শ্রেণি, প্রগ্রেসিভ নার্সারি স্কুল, ময়মনসিংহ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা