প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
অলংকরণ : নিশাত, নবম শ্রেণি, বীট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বগুড়া
বিজয় দিবস ঘিরে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে মহান স্মৃতিসৌধ। এমন সময় তরুণ এক গার্ড আটকে দিল সত্তর-আশি বছর বয়সি এক ভিক্ষুককে। তার মুখ ভরা কালশিটে দাগ। ব্রণের কি না ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। তিনি এক পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা পা নেই। তাই লাঠির দরকার পড়ছে। তার গায়ের পুরোনো ফুল হাতা শার্টের ওপর ছোট্ট করে আঁকা বাংলাদেশের পতাকা।
তরুণ গার্ড তাকে স্মৃতিসৌধে ঢুকতে দিচ্ছিল না বুঝি তার পোশাক দেখে। দূর থেকে মধ্যবয়সি আরেক অফিসার তাকে আটকে দেন। সম্ভবত এই বৃদ্ধ তার পরিচিত। তিনি দূর থেকে ইশারায় বৃদ্ধ লোকটিকে কিছু বললেন মনে হয়।
আমি মূলত এখানে এসেছি একটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে। তার আয়োজন করা হয়েছে স্মৃতিসৌধের সামনের খোলা মাঠে। আমি বসে আছি শেষের দিকে। তাই বিরক্তিকর এই ক্লাসে মন না দিয়ে তাকিয়ে আছি ওই বৃদ্ধের দিকে। মূল গেট দিয়ে তিনি প্রবেশ করে আমাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি দেখে তিনি ডান হাত মুঠো করে বুকের বাঁ পাশে দুবার শক্তিহীন ঘুসি দিয়ে তর্জনীটি তাক করে সোজা স্মৃতিসৌধের দিকে চলে গেলেন। তার মুখে ছড়িয়ে পড়ে অমূল্য হাসি। যে হাসির অর্থ জানি না। তবে সহজেই ফুটে ওঠে স্বাধীনতার মানে। প্রকাশ পায় ‘তিরিশ কিংবা তারও বেশি লাখো মানুষের প্রাণ’- এর মূল্য ও মর্যাদা। অবশেষে শেষ হয় আমাদের সেই বিরক্তিকর কোর্স। আমি মূল গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় সেই অফিসারকে বৃদ্ধকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তার মুখে দেখতে পেলাম সম্মানজনক হাসি। তিনি যা বললেন, তা শুনে আমার চোখ উঠল কপালে। তিনি নাকি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরকার তাকে বারবারই পুরস্কৃত করার চেষ্টা করেছে তবে তিনি তা নিতে চান না। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু কোনো দিন তিনি নেননি। তিনি একজন বাকপ্রতিবন্ধী আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ স্মৃতিসৌধের মূল ফটকের সামনেই রোজ ভিক্ষা করেন এবং মাঝে মাঝে এখানে এসে সময় কাটান। আর এভাবেই মহান স্বাধীনতার মর্যাদা ও গৌরবে তিনি খুশি থাকেন।
ষষ্ঠ শ্রেণি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, শংকর, ধানমন্ডি, ঢাকা