× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হারিয়ে যাচ্ছে কুপি

মোখতারুল ইসলাম মিলন

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৩৮ পিএম

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কুপি

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কুপি

মানুষ কীভাবে সর্বপ্রথম আগুন জ্বালাতে শিখেছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় না। 

প্রথমত, আদিম মানুষ বনজঙ্গলে গাছের সঙ্গে গাছের ঘষা লেগে যে আগুন অর্থাৎ দাবানল জ্বলে উঠত, তা দেখেছিল। তা দেখেই হয়তো কাঠের সঙ্গে কাঠ ঘষে আদিম মানুষ সর্বপ্রথম আগুন জ্বালাতে শিখেছিল। দ্বিতীয়ত, আদিম মানুষ পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে গিয়ে দেখে চকমকি-জাতীয় পাথরের ঠোকাঠুকিতে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। তা দেখে পাথরে পাথর ঠুকে আদিম মানুষ হয়তো আগুন জ্বালাতে শেখে।

তার পর থেকেই বছরের পর বছর এ আগুন ব্যবহার হয়ে আসছে। বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা, পশুপাখির মাংস আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া শুরু হয়। আগুন ব্যবহার করে হাতিয়ার, লোহাজাতীয় জিনিস তৈরি শুরু হয়। এভাবেই মানুষের মেধার বিকাশ ঘটতে এবং উন্নতির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। বসতবাড়ি নির্মাণসহ যুগের এক বিশাল পরিবর্তন ঘটে। সভ্যতায় আলোর সন্ধান পেয়ে যায়।

বহুকাল আগ থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে কেরোসিনের বাতি। যুগের পর যুগ ধরে কেরোসিন তেলের বাতির ভূমিকা অপরিসীম। গ্রামগঞ্জের প্রতিটি ঘরে জ্বলত কেরোসিনের বাতি। আঞ্চলিক ভাষায় এর বিভিন্ন নাম ছিল। যেমন কুপি, চেরাগ, দোয়াত ইত্যাদি। টিপটিপ করে জ্বলত।

টিনের কৌটায় আবদ্ধ কেরোসিনে একটি সুতার গোড়া ডুবিয়ে রেখে মাথায় আগুন ধরিয়ে রাখতে হতো। একটু বাতাস এলেই আগুন নিভে যেত। ঝড়তুফানের সময় তো জ্বালিয়ে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না, কারণ এসব বাতি তারাই ব্যবহার করত, যাদের ঘর ছনের বা টিনের চাল-বেড়া দিয়ে তৈরি। রাতের আঁধারে কষ্ট করে এই অল্প আলোর কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে অন্ধকার কাটাতে হতো। এভাবেই কাটাতে হতো গরিবের জীবন।

কোনো বিদ্যুৎ ছিল না, সে সময় এই কেরোসিন বাতির ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। তবে সেটা আজ খাঁটি বাংলার ঐতিহ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বৈদ্যুতিক আলো ব্যবহার করে নানা ধরনের নতুন নতুন বাতি, ল্যাম্প ইত্যাদি আবিষ্কার হয়েছে। আর এখন প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ গেছে। সবকিছু উন্নতির ফলে আজ গ্রামগঞ্জের প্রতিটি ঘর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কেরোসিনে জ্বলে থাকা বাতি। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা