আইন-আদালত
দিলরুবা শরমিন
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
পাঠকদের আইনগত সমস্যার সমাধানে এই বিভাগ। নির্বাচিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী দিলরুবা শরমিন
প্রশ্ন : আমার বোন ফার্মাসিস্ট ছিলেন। তার হাজব্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বোনের আয় তার হাজব্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বোনের জমি, বাড়ি ও ব্যাংক ডিপোজিট আছে। কিন্তু এ দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না বিধায় তারা এক অনাথ মেয়েকে দত্তক নেন। মেয়েটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেয়াড়াও হয়ে ওঠে। মেয়েটিকে আমার বোন নিজ সন্তান জ্ঞানে মানুষ করতে চাইলেও ভগ্নিপতির কারণে সে স্বেচ্ছাচারী ও বাউন্ডুলে হয়ে যায়। মেয়েটিকে আমার বোন শাসন করতে গেলে সে তার মায়ের গায়ে হাত তুলত। তার স্বামী সেটা নির্বিকারচিত্তে সহ্যও করত।
লোকটি আমার বোনের জমি-ফ্ল্যাট বিক্রি করে মেয়েটিকে লন্ডনে উচ্চশিক্ষিত করতে পাঠান। লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে সে তার উগ্র স্বভাবের জন্য কোথাও চাকরি করতে পারেনি। উপরন্তু মায়ের অর্থে নেশা করে মাঝরাতে বাসায় ফিরত। পাশাপাশি বাসায় ভীষণ অশান্তি করত। আমার বোনের স্বামী মেয়েটিকে কিছুই বলত না। এমন প্রচণ্ড অশান্তির মধ্যে আমার বোনকে একদিন তার নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্বামীর দাবি, আমার বোন সুইসাইড করেছেন। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও বলা হয়েছে, আমার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে তাকে ইলেকট্রিক স্টেনগান দিয়ে ঘাড়ে থুতনিতে আঘাত করা হয়েছে। আমার বোনের স্বামী পুলিশকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, যেন পোস্টমর্টেম না হয়। পরে আমি বাদী হয়ে মামলা করি। আমার বোন হত্যার বিচার চাই। ন্যায়বিচার পেতে আমাদের কী করতে হবে? তা কীভাবে পাব?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা থেকে
উত্তর : আপনার বোনকে হত্যা করা হয়েছে এটা মেডিকেল রিপোর্টে সুনিশ্চিত। কে বা কারা করেছে, কীভাবে করেছে, কেন করেছে, কখন করেছে এটাই বিষয়। সে ক্ষেত্রে প্রথমেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও ব্যক্তিরা হলো ওই বাসার লোকজন। যাদের সঙ্গে তার কনফ্লিক্ট ছিল। পুলিশ তাদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সবকিছু প্রকাশ পাবে।
মামলাটি আসলে সরকার বাদী। সরকারি আইনজীবীরই আপনাদের যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা। কিন্তু নানা কারণে তারা তা সব সময় দিয়ে উঠতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল আইন বিশেষজ্ঞদের সাহায্য বা পরামর্শ নিতে পারেন।
হত্যার এলাকা, আলামত, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলা, সন্দেহভাজনদের আচার-আচরণ লক্ষ করলে অনেক কিছুই প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু হত্যা মামলার মোটিভ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার বোন বেঁচে না থাকলে কার বা কাদের সবচেয়ে লাভ সেটা খুঁজে বের করুন।
পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করুন। সরকারি আইনজীবীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। হত্যাকারী খুঁজে বের করতে মামলাটির পেছনে লেগে থাকুন। ন্যায়বিচার পাবেনই। প্রয়োজনে মিডিয়ার সাহায্য নিন। আপনার বোনের হত্যাকারী আপনাদের পরিচিত এতে সন্দেহ নেই। প্রয়োজন শুধু প্রমাণ করা।