প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৩০ পিএম
অলংকরণ : রাইয়্যা খায়ের, অষ্টম শ্রেণি, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া
শরৎকালে খুব করে বাড়ি যেন আমাকে টানে। আরও অনেককেই যে টানে তা-ই আমার মনে হয়। আমাকে টানে ছোট নদীর দুই ধারের কাশফুল আরও অনেক কিছু। আমাদের বাড়ির বড় উঠানের একপাশে যেখানে বিশাল হরীতকী গাছটা রয়েছে ঠিক তার পাশেই পুকুরের কাছে দুর্গাপূজার মণ্ডপ হয়। প্রতি বছর পূজার আগে ও পরের দিনগুলো এ পুকুরের সিঁড়িঘাটে ও আশপাশে ছোটবড় সবার আড্ডা চলে, কত আনন্দ হয়।
পূজার আগে যখন মণ্ডপ বানানো হয় তখন সেখানে থাকা সাজসজ্জাকারীরা পুকুরটিতে কখনও কখনও ঝাঁপ দেয়। মজা করে। কি আনন্দ, কি সুন্দর লাগে দেখতে এসব দৃশ্য। দশমীতে বিসর্জনের পর কয়েক দিন পর্যন্ত মণ্ডপটি থাকে আর আমরা সবাই আড্ডা দিই। আমাদের সঙ্গে আমাদের মুসলিম প্রতিবেশী বন্ধুরা ও বড়রা যোগ দেন।
ক’বছর আগে আমরা ছোটরা মিলে পূজামণ্ডপের কাছে দোকান দিয়েছিলাম। নানানরকম খাবারের দোকান। বেশ লাভ হয়েছিল। পরে সে টাকা দিয়ে ছোটরা পিকনিক করেছিলাম।
পূজার সময় আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন বড়রা। এ আয়োজনে থাকে আরতি, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাধারণজ্ঞান চর্চা পর্ব ইত্যাদি। সবার জন্য থাকে পুরস্কার।
ঢাকা থেকে আমরা প্রতিবার পূজায় বাড়ি যাই। করোনার সময় ভেবেছিলাম এবার হয়তো বাড়ি যাওয়া হবে না। তবে পূজার আগে সংক্রমণ কিছুটা কমায় বাড়ি যেতে পেরে খুব খুশি হয়েছিলাম। যারা ঈদ বা পূজার মজার দিনগুলোয় বাড়ি যেতে পারে না, তাদের জন্য আমার খুব মন খারাপ হয়। উৎসব তো সবার কাছেই আনন্দের। তা ছাড়া সবার প্রকৃতির কাছে যাওয়া দরকার, যে প্রকৃতি গ্রামে ভিন্নরকমভাবে ঋতুবদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসে।
শরৎ আমার কাছে আনন্দের একদম উপযুক্ত সময় মনে হয়। বিদ্যালয় পূজার সময় বন্ধ থাকে তাই আগে থেকেই ভাবতে থাকি কাশফুলে ঘেরা মনোরম পরিবেশে বন্ধুদের নিয়ে কীভাবে কাটাব। আমরা সব ধর্মের অনুসারীরা যার যার মতো করে ধর্ম পালন করি কিন্তু উৎসব উদযাপন করি সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। আমাদের মিলনের এ আনন্দ-উল্লাসের সুযোগ শরৎকাল বিশেষভাবে তৈরি করে। এ আনন্দ আমাদের মধ্যে সম্প্রীতির সেতু মজবুত করে। অনেকের কাছেই শরৎ প্রিয় ঋতু। আমারও। শরতের মন ভোলানো প্রকৃতি ও আকাশের সুন্দর রূপ আমাদের যে নির্মল আনন্দ দেয় তা অমলিন থাকুক। আমরা শরতের মতো উদার হই। শরতের আনন্দ ফিরে আসুক বারবার।
পঞ্চম শ্রেণি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, শংকর, ধানমন্ডি, ঢাকা