ফ্যাশন
নীরা ইসলাম
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩ ২২:০৬ পিএম
মডেল : চিত্র নায়িকা রোজিনা; কোরিওগ্রাফার : বুলবুল টুম্পা; পোশাক ও ছবি: যাদুর বাক্স
প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের মিশেলে ফিউশন পোশাকের চল এখন অনেক বেশি। নানা ফেব্রিক ও ডিজাইনের ফিউশন পোশাকের ভিড়ে গামছার ফিউশন পোশাক এখন ফ্যাশনে ইন। ফরমাল ও ক্যাজুয়াল দুটি লুকের জন্যই বেছে নিতে পারেন গামছা পোশাক

প্রতিদিনের গা মোছা, চুল ঝাড়ায় ব্যবহৃত গামছাটি অবহেলায় অনাদরে ঝোলানো থাকে বারান্দায়Ñ এটি বাঙালি ঘরের খুব পরিচিত দৃশ্য। এ ছাড়া লোকশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গামছার ইতিহাস-ঐতিহ্য। মাথায় গামছা বেঁধে গান করেন লোকশিল্পী। গামছার সঙ্গে মিশে আছে তাঁতির নিখুঁত হাতের ছোঁয়া। কালের পরিক্রমায় গা মোছার গামছা পরিণত হয়েছে পোশাক তৈরির ফেব্রিকে। গামছা দিয়ে নানা কাটের পোশাক দেখা যায় ফ্যাশন হাউসগুলোয়। সাড়ে ৩ হাতের গামছা দিয়ে নানাভাবে ডিজাইন করে তৈরি করা হয় ১২ হাত শাড়ি।
গামছা দিয়ে শাড়ি তৈরির বিষয়টি অনেক দিনের হলেও বর্তমানে একাধিক গামছা থেকে খণ্ড খণ্ড কাপড় একসঙ্গে জুড়ে নতুন ডিজাইন করছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। কখনও কখনও অন্য কাপড়ের সঙ্গে গামছাখণ্ড জুড়ে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। গামছার এ প্যাচওয়াকের সঙ্গে পোশাকে থাকে সুতার কাজ, কাঁথা স্টিচ যা দিনে দিনে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পোশাক তৈরির গামছাগুলোয় পাকা রঙ দেওয়া হয় বলে এর রঙ ওঠা নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।

দেশি পোশাকে গামছা : লাল-সাদা, আকাশি-সাদা, গোলাপি-সাদা, হলুদ-কমলা বিভিন্ন রঙের সমন্বয়ে তৈরি হয় গামছা। আগে ঋতুবরণ, ফাল্গুনী উৎসব, পহেলা বৈশাখের মতো অনুষ্ঠানে দেশি কৃষ্টি তুলে ধরতে গামছা পোশাক বেছে নিতেন অনেকে। তবে বর্তমানে ফ্যাশনপ্রেমীদের সব সময়ই গামছা পোশাক পরতে দেখা যায়। গামছার প্যাচওয়াকে তৈরি শাড়ি, শাল, পাঞ্জাবি, কুর্তি, ফতুয়া, শিশুদের জন্য বেবি ফ্রক সবই এখন বাজারে মেলে। একরঙা শাড়ির পাড় ও আঁচলের গামছা প্যাচওয়াক ডিজাইন দেখতে যেমন সুন্দর, তেমন পরার পরে আপনাকে করে তুলবে অনন্য। শেরওয়ানি বলতেই খুব জমকালো, স্টোন ওয়ার্ক করা পোশাকের কল্পনাই আমাদের মাথায় আসে। চিরাচরিত এই ধারণা বদলে খুবই সাধারণ ডিজাইনে গামছা প্যাচওয়াকে অসাধারণ শেরওয়ানি তৈরি হচ্ছে এখন।

গামছায় ফরমাল : বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মস্থলে ফরমাল পোশাকে যেতে হয়। ফরমাল পোশাকে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে গামছার প্যাচওয়াক খুবই উপযোগী। গামছা দিয়ে তৈরি ব্লেজারে ফ্যাশনেবল রুচি প্রকাশ পাবে। ফরমাল শাড়িতে গামছা প্যাচওয়াকের সঙ্গে কুরুচকাটার ডিজাইন স্থান পাচ্ছে এখন। গামছা দিয়ে তৈরি শাড়ি, ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট-প্যান্ট অফিসগামীদের জন্য যেমন আরামদায়ক, তেমনই আকর্ষণীয়। শাড়ির সঙ্গে গামছার ব্লেজার পরতে পারেন। এতে ফরমাল লুক আসবে আবার দেখাবে সবার থেকে আলাদা ট্রেন্ডি ও আকর্ষণীয়।

পশ্চিমা পোশাকে গামছা : পশ্চিমা পোশাকের আবেদন সব সময়ই ছিল। বর্তমানেও বহাল তবিয়তে আছে। তবে এখন যে বিষয়টি বেশি দেখা যায় তা হলো দেশি ও পশ্চিমা ধাঁচের মিশেলে ফিউশন পোশাক। গামছা দিয়েও এমন ট্রেন্ডি ও ফ্যাশনেবল পোশাক দেখা যাচ্ছে এখন। গামছা প্যাচওয়াকে তৈরি গাউন, শর্ট টপস, লং টপস, শ্রাগ, স্কার্ট, ওয়েস্ট কোট, টিউনিক, জ্যাকেট প্রভৃতি রয়েছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড যাদুর বাক্সে। তাদের গামছা প্যাচওয়াকে পোশাকগুলো যেমনটা পশ্চিমা প্যাটার্নে তৈরি, তেমনটাই তুলে ধরে দেশি সংস্কৃতি। পশ্চিমা ধাঁচের এ পোশাকগুলো ক্যাজুয়াল লুকে খুব ভালো বানায়; যা একদিকে ট্রেন্ডে রয়েছে, অন্যদিকে সারা দিন পরার জন্য খুবই আরামদায়ক।
শুধু পোশাকে নয়, আজকাল গয়না তৈরিতেও ব্যবহার হচ্ছে গামছা। গামছার কাপড় মুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে চুড়ি, গলার মালা, কানের দুল। গামছার তৈরি ব্যাগ, পার্স, বটুয়া, জুতা হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়; যা গামছা পোশাকে বা যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়। এ ছাড়া মেলে গামছার তৈরি বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দা, টিস্যুবক্স, ল্যাম্পশেড, টেবিল রানার, জুয়েলারি বক্স, কুশন কভার, শতরঞ্জি, পেইন্টিং ফ্রেম, নোটবুক ও টেবিল ন্যাপকিন; যা বাড়ায় ঘরের সৌন্দর্য।